ভারতীয় কূটনীতিক ও জামায়াত আমীরের ‘গোপন’ বৈঠক

Published: 31 December 2025

পোস্ট ডেস্ক :


ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বিদায়ী বছরের শুরুতে এই বৈঠক হয়েছে বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। তবে বৈঠকের খবর এতদিন প্রকাশ করা হয়নি। অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে বৈঠক করলেও ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের খবর তিনি অপ্রকাশ্য রেখেছিলেন। জামায়াত আমীরের দাবি ভারতীয় কর্মকর্তাদের অনুরোধেই খবরটি গোপন রাখা হয়। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

এদিকে আমাদের কূটনৈতিক রিপোর্টার নিশ্চিত করেছেন যে, জামায়াত আমিরের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের বৈঠকটি ২০২৫ সালের শুরুতে নয় বরং তা ৩রা সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমিরের বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে বৈঠকটি হয় বলেও জানান তিনি। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এক সময় নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার পথে রয়েছে। দলটি জাতীয় সরকার গঠনে আগ্রহী। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করেছে তারা। জনমত জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে- দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দলটি মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার লড়াইয়ে বিএনপি’র পরের অবস্থানেই থাকতে পারে। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ ছিল ইসলামপন্থি এই দল।
ঢাকার নিজ কার্যালয়ে বসে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জামায়াতের আমীর। বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য আমরা একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র দেখতে চাই। দলগুলো যদি একমত হয়, তাহলে আমরা সকলে মিলে সরকার পরিচালনা করবো। সম্প্রতি জেন-জি তথা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে জামায়াতের জোট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান: শরিয়াহ আইনের ভিত্তিতে ইসলামী শাসনের কথা বললেও বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী রক্ষণশীল গণ্ডির বাইরে জনসমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেকোনো ঐকমত্যের সরকারের জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ একটি অভিন্ন লক্ষ্য হতে হবে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনে যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, প্রধানমন্ত্রী সেই দল থেকেই হবেন। জামায়াত যদি সর্বোচ্চ আসন পায়, তবে তিনিই প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হবেন কিনা, সে বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। চব্বিশের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াতের পুনরুত্থান ঘটেছে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনে নিষিদ্ধ। হাসিনা জামায়াতের তীব্র সমালোচক ছিলেন এবং তার শাসনামলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ নেয়ায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১৩ সালে আদালতের এক রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। তবে চব্বিশের আগস্টে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটির ওপর থেকে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়।

ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক: ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান টানাপড়েন একটি উদ্বেগের বিষয়। ভারতের সঙ্গে হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। ভারত এখন আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারে এমন দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। শফিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, গত বছরের শুরুতে তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে দেখা করলেও ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আমাদের সকলের জন্য উন্মুক্ত হতে হবে এবং একে অপরের প্রতি উদার হতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে একটি সরকারি সূত্র বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আমীর বলেন, আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে আগ্রহী নই। বরং আমরা সকল দেশকে সম্মান করি এবং দেশগুলোর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই।