চট্টগ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় শিল্পপতির বাড়ি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি
পোস্ট ডেস্ক :

চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় শিল্পপতির বাড়ি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি করছে। ছবি: সিসি টিভির ফুটেজ থেকে পাওয়া
চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও শিল্পপতি মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। তবে গুলিতে কেউ হতাহত না হলেও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। মুজিব দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মুজিবুর রহমানের বাড়িতে মুখোশধারীরা গুলি করে বলে জানায় পুলিশ।
গুলির করার সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমে ছিলেন উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা ঘুমে ছিলাম। গুলির শব্দ পাইনি। ঘুম থেকে উঠে গুলির বিষয়টি জানতে পারি।
তবে কালের কণ্ঠের হাতে আসা সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মুখোশধারীদের গুলির করা চিত্র স্পষ্ট দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সিএমপির দক্ষিণ জোনের উপকমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, একটি মাইক্রোবাসে ৮ জন মুখোশধারী এসেছিল। এরপর পিস্তল উঁচিয়ে কয়েক রাউন্ড ফায়ার করে চলে যায়। চাঁদার জন্য ভয় দেখাতেই বাড়ির সামনে ও পেছনে গুলি করা হয়েছে।
কারা এবং কেন গুলি করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিল্পপতি মুজিব সাহেবকে একটি দুবাইভিত্তিক নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল।
তিনি বিষয়টি কাউকে জানাননি। আমরা ধারণা করছি মুখোশধারীরা সবাই বড় সাজ্জাদের অনুসারী।
পুলিশ ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্তের কাজ করছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
১৯৯৯ সালের ২ জুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচলাইশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খানকে বাড়ির সামনে খুন করে আলোচনায় আসেন একই এলাকার গনি কন্ট্রাক্টরের ছেলে সাজ্জাদ আলী। এরপর ১২ জুলাই ২০০০ ছাত্রলীগের একটি সশস্ত্র গ্রুপের ওপর ব্রাশ ফায়ার করে ছয় নেতাকর্মীসহ আটজনকে হত্যা করার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়ে আবারও আলোচনা আসেন সাজ্জাদ।
সেই এইট মার্ডারের তিন মাসের মাথায় ৩ অক্টোবর বায়েজিদ থানার চালিতাতলী থেকে একে-৪৭ রাইফেলসহ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ২০০৪ সালে জামিনে বের হয়ে বিদেশে পালিয়ে যান সাজ্জাদ। কিছুদিন দুবাই অবস্থান করার পর ভারতে অবস্থান নেন। ভারতে বসেই ‘এইট মার্ডার’ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাজ্জাদ আলী নিয়ন্ত্রণ করছেন চট্টগ্রামের অপরাধ জগত।




