বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড়
পোস্ট ডেস্ক :
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যে কায়দায় আটক করা হয়েছে তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশক’টি দেশ। এর মধ্যে রাশিয়া, ইরান ও কিউবার তরফে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জার্মানি, ইতালি, বৃটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া, কিউবা, ও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এমন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিউবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’- বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। দেশটি দ্রুত এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলাকে শান্ত বলয় হিসেবে বর্ণনা করে আসছিল তারা। কিউবা বলছে, ভেনেজুয়েলা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নৃশংস হামলার শিকার হচ্ছে। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক দেশ থেকে সরিয়ে নেয়ার খবরে তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা এই পরিস্থিতির অবিলম্বে স্পষ্টীকরণ দাবি করছি। এই ঘটনাকে স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য বলে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘনের কথা বলেছে তারা। ট্রাম্প প্রশাসন চাপ বৃদ্ধি করার সময় থেকেই রাশিয়া মাদুরো সরকারের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে কাজ করে আসছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি বলেছেন, রোম এবং কারাকাসে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশন ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে, বিশেষ করে সে দেশে বসবাসরত ইতালির নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তাজানি জানান, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে প্রতিনিয়ত সব আপডেট জানানো হচ্ছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস ইউনিট সক্রিয় করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত ইতালীয় রাষ্ট্রদূত ইতালির রাষ্ট্রীয় টিভিতে জানান, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ইতালীয় নাগরিক বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশেরই দ্বৈত পাসপোর্ট রয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য ক্রাইসিস টিম বা জরুরি দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। রয়টার্সের দেখা একটি লিখিত বার্তায় বলা হয়েছে, জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারাকাসে তাদের দূতাবাসের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। এদিকে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তার দেশ জড়িত নয়। তবে এই হামলার বিষয়ে মন্তব্য করার আগে তিনি এ বিষয়ে আরও তথ্য জানতে চান। বিবিসি’র খবরে বলা হয়, স্টারমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়োলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি। বৃটেনের সমপ্রচারমাধ্যমগুলোর জন্য রেকর্ড করা বক্তব্যে স্টারসার বলেন, বিষয়টি (হামলা পরিস্থিতি) খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি যে, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিল না।




