সিলেটে মালিকের দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য যাচাই হচ্ছে
পোস্ট ডেস্ক :

সিলেট-৩ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী এমএ মালিকের দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে দেয়া তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তির তৈরি হয়েছে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম আরও অধিকতর তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তার মনোনয়নপত্র রেখে দিয়েছেন। রোববার তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এমএ মালিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে বসবাস করছিলেন। ওখানে থেকে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। এবারের নির্বাচনে এমএম মালিককে দেয়া হয়েছে বিএনপি’র মনোনয়ন। সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তার আসনে কোনো ডামি প্রার্থী রাখা হয়নি। দাখিল করা মনোনয়নপত্রে এমএ মালিক জানিয়েছেন, তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
গতকাল বাছাই শেষে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা এবং মাইনুল বাকেরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে গড়মিল থাকায় শনিবার তাদের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এদিকে সিলেট জেলার ৬টি আসনে এবার ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সিলেট-২ আসনে ২ জন, সিলেট-৩ আসনে ২ জন ও সিলেট-৪, সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে একজন করে প্রার্থী। সিলেট-১ আসনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল না হলেও গণঅধিকার প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছিল। সংশোধনের মাধ্যমে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। সিলেট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জাল প্রমাণিত হওয়ায় নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস শহীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনা ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুনতাসির আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জটিলতা থাকায় স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সাইদ আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি’র পক্ষ থেকে দুই প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছেন। তবে বিএনপি’র অপর প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া কাগজপত্রে কিছু অসঙ্গতি থাকায় ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সিলেট-৫ আসনে জমিয়ত, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো খুবই ছোটখাটো ভুল ছিল। সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। বাতিল হওয়াদের সে সুযোগ নেই। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে প্রার্থীদের নিয়ে একদিনের ট্রেনিং করার চিন্তাভাবনা ছিল। যদি এ ট্রেনিং করা হতো তাহলে অনেক ছোটখাটো ভুল এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।




