নারীদের নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগ, যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হতে পারে এক্স

Published: 10 January 2026

পোস্ট ডেস্ক :


এক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক সংক্রান্ত বিতর্কে ক্রমেই বাড়ছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের বিরুদ্ধে সমালোচনা। তবে মাস্কের দাবি, এসব সমালোচনা আসলে এক্সের ওপর সেন্সরশিপ চাপানোর জন্য অজুহাত খোঁজার চেষ্টা। এটি ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়াই নগ্ন ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরি করছে। এসব ছবির মধ্যে শিশুদের ছবিও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ ও সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম জানিয়েছে, তারা এক্সের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে একটি মূল্যায়ন শুরু করেছে। এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের ছবি নগ্ন ও যৌনভাবে বিকৃত করে ব্যবহার করা ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়। কেন্ডাল আরো জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি অফকমের কাছ থেকে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য প্রত্যাশা করছেন।

ইলন মাস্ক বলেছেন, ‘এক্স-এর সমালোচকেরা সেন্সরশিপের অজুহাত খুঁজছেন। ব্রিটেনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা জরুরি তদন্ত শুরু করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, গ্রোকের ফ্রি সংস্করণ ব্যবহার করে নারীদের পোশাক খুলে দেওয়া ও যৌন ভঙ্গিতে দেখানোর একাধিক উদাহরণ তারা দেখেছে।

ইলন মাস্কের এক সন্তানের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, গ্রোক তার ছোটবেলার ছবি থেকে নগ্ন ছবি তৈরি করেছে।

তিনি জানান, তিনি স্পষ্টভাবে অসম্মতি জানালেও এআই তার ছবি প্রায় নগ্ন অবস্থায় দেখিয়েছে।
এ ঘটনার পর এক্স তাদের এআই দিয়ে ছবি তৈরির সুবিধা সীমিত করেছে। এখন এই ফিচার কেবল টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করা ব্যবহারকারীরাই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, এই সিদ্ধান্ত যৌন সহিংসতার শিকারদের জন্য অপমানজনক।

অদফকম জানিয়েছে, প্রয়োজনে অনলাইন সেফটি আইনের আওতায় যুক্তরাজ্যে এক্সকে ব্লক করার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নিলে তারা অফকমকে পূর্ণ সমর্থন দেবে।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে লজ্জাজনক বলেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ বলেছেন, সমস্যার সমাধান দরকার হলেও এক্স পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।