ইরানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রয়েছে ট্রাম্পের বিবেচনায়
পোস্ট ডেস্ক :

ইরান বিষয়ে ব্যবহারের জন্য সামরিক ও গোপন উভয় ধরনের বিস্তৃত বিকল্প সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের দুই কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের সামনে সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (সাইকোলজিক্যাল ক্যাম্পেইন) পরিচালনার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তারা ‘যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত’ বলেও সতর্ক করেছেন। সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল ইরান বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে একটি বৈঠক করতে পারে। তবে সেই বৈঠকে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যদি আরও বিক্ষোভকারী নিহত হন, তবে তার সেনাবাহিনী ‘অত্যন্ত শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতারা তার সঙ্গে ‘আলোচনা করতে ফোন করেছিলেন’। তবে একই সঙ্গে বলেন, বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। ইরানের মুদ্রার ভয়াবহ পতন এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্ব এখন বৈধতার গভীর সংকটে পড়েছে।
সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান, একজন ইরানি কর্মকর্তা ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে গোপনে পাঠানো বার্তাগুলোর মধ্যে ‘স্পষ্ট পার্থক্য’ রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রয়োজন মনে করলে সামরিক বিকল্প ব্যবহারে মোটেও ভয় পান না। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই দুই সূত্র সিবিএস নিউজকে জানান, ইরানে যেকোনো সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানত আকাশশক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি, ইরানের কমান্ড কাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করার কৌশলও বিবেচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অবস্থানরত তার নাগরিকদের দেশটি ছাড়তে অথবা এমন একটি প্রস্থান পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে মার্কিন সরকারের সহায়তার প্রয়োজন না হয়। এদিকে আয়াতুল্লাহ খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতক ভাড়াটে শক্তির ওপর নির্ভরতার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি সোমবার ইরানে আয়োজিত সরকারপন্থী সমাবেশগুলোর প্রশংসা করেন।




