বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের!
পোস্ট ডেস্ক :

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) রাজি করানোর। এজন্য তারা সরাসরি ঢাকায় প্রতিনিধি পাঠিয়েছে এবং আলোচনা করে ভারতেই বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে না যাওয়ার বিষয়টি তারা আইসিসির প্রতিনিধিদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। এমনকি গ্রুপ পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। তবে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে টাইগারদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা এক শতাংশেরও কম। আইসিসির হাতে এখন দুটি পথ খোলা, হয় ওয়াকওভার দিয়ে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে পয়েন্ট দেয়া, অথবা বাছাইপর্ব (কোয়ালিফায়ার) থেকে অন্য কোনো দলকে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত করা।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের আপত্তির বিষয়ে বিসিবি এবং আইসিসি এখনও কোনো সুরাহায় পৌঁছাতে পারেনি। অথচ টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি আর মাত্র তিন সপ্তাহ। শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার পর বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায় যে তারা ‘এই বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে’। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে এত অল্প সময়ে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ দেখছে না। অন্যদিকে, গ্রুপ অদলবদলের বিষয়ে আয়ারল্যান্ডকে অনুরোধ করার পরিকল্পনা থাকলেও, আইরিশ ক্রিকেট বোর্ড তাতে সম্মতি দেয়নি বলে জানা গেছে। বিসিবির সূত্রটি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ‘আমার মনে হয় না এ সমস্যার কোনো সমাধান হবে। আমরা মানসিকভাবে বিশ্বকাপ না খেলার জন্য প্রস্তুত আছি।’
ভারতে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে সংকটের সূত্রপাত হয় যখন বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের আইপিএল ২০২৬ স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দেয়। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না দর্শিয়ে নেয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে ফাটল ধরে। এর জেরে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। একাধিক বৈঠকের পরও বিসিবি তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে।
এদিকে, একটি স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থার তৈরি করা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতে খেলতে যাওয়া দলগুলোর জন্য হুমকির মাত্রা ‘মাঝারি থেকে উচ্চ’ স্তরের, তবে সরাসরি অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ওপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।




