লন্ডনে লরি চাপায় থমকে গেল শাকিলের স্বপ্ন
পোস্ট ডেস্ক :

তিন বোন, বাবা আর মায়ের স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে ব্রিটেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাফিজুল হক শাকিল। টিউশন ফি, খাবারের খরচ আর বাসার ভাড়া জোগানোর পাশাপাশি দেশে সংসারকে সাপোর্ট করার দায় ছিল তার কাঁধে। তাই পড়াশোনার ফাঁকে জীবিকার তাগিদে ঘুরত তার সাইকেলের চাকা, কাঁধে ঝুলে থাকত ফুড ডেলিভারি ব্যাগ।
নিজের কাঁধে ঝুলন্ত সেই ব্যাগেই ছিল তার স্বপ্ন, পরিবারকে ভালো রাখার কষ্ট, বোনদের ভবিষ্যৎ গড়ার দৌড় আর নিজের জীবন বদলে ফেলার গল্প।
কিন্তু লরির এক আঘাতে কমার্শিয়াল রোডের পাশে পড়ে থাকা সেই ব্যাগটি সেদিন হয়ে ওঠে নিস্বপ্ন, রক্তাক্ত শরীরের পাশে পড়ে থাকা ব্যাগ যেন শুধু একটি পরিবারের নয়, বিলেতে পড়তে আসা হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বুকে আঘাত করার এক কান্নার গল্প।
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি ছাত্র নাফিজুল হক শাকিল। রয়েল লন্ডন হাসপাতালে গত পাঁচ দিন বেঁচে থাকার সংগ্রামে পরাজিত হয়ে গতকাল সোমবার রাতে চলে গেছেন পরপারে। গত ১৪ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডে সাইকেলে করে ফুড ডেলিভারি কাজ শেষে ফেরার পথে তিনি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।
লন্ডন পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একটি প্রাইভেট কারের দরজা হঠাৎ খুলে গেলে শাকিল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। ঠিক সেই সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি লরি তাকে সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে আহত অবস্থায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত গত ১৯ জানুয়ারি রাতে তিনি মারা যান।
নাফিজুল হক শাকিল লন্ডনের সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে যুক্তরাজ্যে এলেও আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে ফুড ডেলিভারি কাজ করতে হতো।
নিহত শাকিল বাংলাদেশের সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি ব্রাহ্মণগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা।
শাকিল ছিলেন মা-বাবার একমাত্র পুত্রসন্তান। মর্মান্তিক এ মৃত্যুতে বাবা–মা হারান তাদের স্বপ্নের ভরসা, আর তিন বোন হারান তাদের একমাত্র ভাইকে।
শাকিলের বন্ধুরা জানান, কমার্শিয়াল রোডে পড়ে থাকা সেই ফুড ডেলিভারি ব্যাগ আজ যেন একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বপ্ন বাঁচাতে গিয়ে জীবন হারানো কি নিয়তি হয়ে উঠছে?




