ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এক মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
পোস্ট ডেস্ক :

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আবারও বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে কথিত ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। পরিবারের অভিযোগ হিন্দুত্ববাদী উসকানিদাতারাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। নিহত ব্যক্তির নাম মঞ্জুর আলম লস্কর (৩২)। বুধবার রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় তাকে হত্যা করা হয়। এ খবর দিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন।
এতে বলা হয়, নিহত মঞ্জুর দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থি থানার অন্তর্গত রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রায় এক দশক ধরে কোমারোলু এলাকায় জরির কাজ করতেন।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ওই এলাকায় কাজ করলেও তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ বলে অপমান করা হচ্ছিল এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছিল। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার মঞ্জুরকে অপহরণ করা হয় এবং ২৫ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে একটি অচেনা নম্বর থেকে মঞ্জুরের স্ত্রীকে ফোন করে মুক্তিপণের দাবি জানানো হয়। স্বামীর প্রাণভয়ে পরিবার কোনোমতে ৬ হাজার রুপি জোগাড় করে পাঠায়। কিন্তু বুধবার রাতে পরিবারকে জানানো হয়, মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের দাদা গিয়াসউদ্দিন লস্কর, যিনি রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। তার অভিযোগ, এই খুন পূর্বপরিকল্পিত। যারা মুক্তিপণের ফোন করেছিল, তারাই আমার ভাইকে খুন করেছে। হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীরাই এর সঙ্গে জড়িত।
পরিবারের আরও অভিযোগ, প্রথমে মঞ্জুরকে ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হয়, পরে তার বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়।
পরিবার ইতিমধ্যেই কোমারোলু থানায় যোগাযোগ করেছে এবং যে নম্বর থেকে মুক্তিপণের ফোন এসেছিল, তা পুলিশকে দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, রাজ্য সরকার যেন অবিলম্বে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে। উল্লেখ্য, বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশে বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায়।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। উস্থি এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি বা তাদের সহযোগী দল পরিচালিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষী সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।




