জামায়াতের তুলনায় বিএনপিতে রাজাকার ১০ গুণ
পোস্ট ডেস্ক :

বরগুনার পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা কমিউনিটি সেন্টারে শনিবার উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন বরগুনা-২ আসনের ১০ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ। ছবি, কালের কণ্ঠ
বিএনপিতে যত রাজাকার আছে, জামায়াতে ইসলামীতে তার ১০ ভাগের এক ভাগও নেই বলে মন্তব্য করেছেন বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ। তিনি দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ-এর শূরা সদস্য।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে বরগুনার পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় বিএনপির রাজাকার তালিকা ও ইতিহাস নিয়ে সরাসরি আক্রমণাত্মক এই মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে নাচনাপাড়া ইউনিয়নের মানিকখালী বাজারে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে ডা. সুলতান আহমদ প্রায় ২১ মিনিট বক্তব্য দেন।
রাত পৌনে ৮টার দিকে তাঁর বক্তব্য শেষ হয়। সেখানেও একই মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, ১৯৪৭ সালের পর কোনো হিন্দু ভাই বা হিন্দু নারীর প্রতি জুলুম বা কটাক্ষের নজির নেই। বরং যারা তাদের পক্ষে কথা বলে, তারা তাদের ওপর অন্যায় করেছে।
এ কারণেই সনাতনী ভাইরা আমাদের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে যাতে তারা ভোট দিতে না পারে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. সুলতান বলেন, ‘আপনাদের নেতা তারেক জিয়া, আমরা শ্রদ্ধা করি। জিয়াউর রহমানের ছেলে, খালেদা জিয়ার ছেলে।
তারেক রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ৭১ সালে এই করেছে, সেই করেছে- তাঁর এই কথাটা ঠিক হয়নি। আপনাদের দলে যত রাজাকার আছে, আপনাদের দলে যত পাকিস্তানপন্থী আছে, জামায়াতে ইসলামীতে তার ১০ ভাগের এক ভাগও নেই।’
ডা. সুলতান বলেন, ‘জামায়াতের যখন বসার জায়গা ছিল না, তখন স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকও আমার বাসায় হতো। ফখরুল সাহেব দুইবার সেই মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার জন্য আমার বাসায় এসেছেন। সেই বন্ধুত্ব আমাদের।
কাজেই ভুল কইরেন না। আজকে আপনারা ভুল কথা বলতেছেন।’ তিনি বলেন, ‘এই পাথরঘাটার মানুষ জানেন আপনারা- আমি নাম বলতে চাই না, আল্লাহ তাদেরকে বেহেশত নসিব করুক- কারা বরগুনা জেলার সব থেকে বেশি পাকিস্তানপন্থী ছিল? পাথরঘাটার মানুষ রাগ কইরেন না। পাথরঘাটার মানুষ সবচেয়ে বেশি ছিল। ভুল-শুদ্ধ সেই ব্যাখ্যায় আমি যাব না।’
উঠান বৈঠকে দাঁড়িয়ে কর্মীদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন ডা. সুলতান- ‘রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস কোন দলের ছিলেন’? সামনে বসা নেতাকর্মীদের সমস্বরে উত্তর, ‘বিএনপি’। এরপর প্রশ্ন আসে, ‘শাহ আজিজুর রহমান কোন দলের’? উত্তরও একই। এই প্রশ্নোত্তরের ফাঁকে তিনি টেনে আনেন স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতির পুরনো দিনের কথা।
ডা. সুলতান আহমেদের ভাষায়, ‘জিয়াউর রহমান তখন সদ্য রাজনীতির ময়দানে আসা একজন মেজর। দেশ কিভাবে চালানো হবে, সে পরামর্শই তিনি তাঁদের কাছে চাইতেন ‘ এই পরামর্শের ধারাবাহিকতায়ই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা গড়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত প্রার্থী। তাঁর দাবি, ‘সেটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত’।
এরপর আলোচনায় আসে আরেক জনপ্রিয় রাজনীতিকের নাম ‘ফজলুল কাদের চৌধুরী কোন দলের ছিলেন, প্রশ্ন রাখেন তিনি। সঙ্গে যোগ করেন তাঁর ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম, ইঙ্গিত করেন রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গেও।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি সরাসরি যান রাজাকার তালিকা প্রসঙ্গে। প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজাকারের একটি তালিকা করেনি? নিজেই জবাব দেন, ‘রাজাকারের তালিকা প্রথমে ছিল আওয়ামী লীগ, দ্বিতীয় বিএনপি’। আর জামায়াতের নাম এসেছে তৃতীয় ধাপে, তাও তাঁর দাবি অনুযায়ী মাত্র ৩৭ বা ৪৭ জনের। এসব বিষয় ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘আমরা সব দেখেছি, সব জানি।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে ডা. সুলতান ফিরে যান ২০০৮ সালের নির্বাচনে। পাথরঘাটার উঠান বৈঠকে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনেও তিনি বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মাহবুবের পক্ষে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় জামায়াতের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও শেষ পর্যন্ত খন্দকার মাহবুব নির্বাচিত হতে পারেননি। ডা. সুলতান আহমেদের ভাষায়, ‘এর পেছনেও একটা রহস্য আছে।’
কেন বিএনপির প্রার্থী হয়েও খন্দকার মাহবুব সংসদ সদস্য হতে পারলেন না, সে প্রশ্ন তিনি সরাসরি তুলে দেন কর্মীদের সামনে। এই পরাজয়ের দায় কার ওপর পড়ে, কে বা কারা তাঁকে ফেল করিয়েছে, সে বিষয়টি ‘রিসার্চ করে দেখার’ আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যের শেষে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই প্রশ্নগুলো ভেবে দেখার সময় এখনই।




