শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পোস্ট ডেস্ক :

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন ও অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যার দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই আদেশ দেন। এর আগে আদালত দুই মামলায় ৬৪ জন আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এ সময় আসামিদের মধ্যে ৪১ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন শুনানি করেন।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। জুলাই হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া প্লট দুর্নীতির পাঁচ মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জুলাই হত্যার ঘটনায় আরও বহু মামলায় তিনি আসামি।
হোসেন হত্যা মামলা: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন। এ ঘটনায় আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই ব্যক্তি। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান গত ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও অনেকে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জামিনে রয়েছেন ১০ জন।
সবুজ হত্যা মামলা: ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চব্বিশের অভ্যুত্থানের শেষ পর্যায়ে মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সবুজ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর সবুজের ভাই মনির হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪৫০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে শুরুতে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম না থাকলেও তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম গত ২৭ নভেম্বর ওই তিনজনসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় ২১ জন পলাতক থাকায় সোমবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নুরনবী চৌধুরী শাওনের নামও রয়েছে। সাদেক খানসহ তিনজন এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন। জামিনে রয়েছেন ছয়জন।




