ফের শাটডাউনের মুখে যুক্তরাষ্ট্র
পোস্ট ডেস্ক :

সিনেটে শেষ মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন সংক্রান্ত বিল পাস হলেও ফের শাটডাউনের মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এবারের শাটডাউন আংশিক। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সরকারি অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই শাটডাউন কার্যকর হয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
এতে বলা হয়, সিনেট যে বিলটি অনুমোদন করেছে, তাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ সরকারি সংস্থার অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)-এর জন্য মাত্র দুই সপ্তাহের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে, পুরোপুরি বন্ধ না রেখে সাময়িকভাবে চালু রাখার উদ্দেশ্যে। বিলটি এখনও প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন পায়নি। প্রতিনিধি পরিষদ বর্তমানে অধিবেশনে নেই।
ডেমোক্রেটদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত অর্থায়নে রাজি হননি ডেমোক্রেটরা।
গত এক বছরে এটি দ্বিতীয়বারের মতো সরকারি শাটডাউন। এর আগে ২০২৫ সালে ১ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৪৩ দিন ধরে চলা শাটডাউনটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ। ওই সময় বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং কয়েক লাখ সরকারি কর্মচারী সপ্তাহের পর সপ্তাহ বেতন পাননি।
বর্তমান শাটডাউন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ প্রতিনিধি পরিষদ সোমবার পুনরায় অধিবেশনে বসার কথা রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই পরিবহন, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি সংস্থাকে শাটডাউন পরিকল্পনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। এক স্মারকে বলা হয়েছে, কর্মীদের পরবর্তী নির্ধারিত দায়িত্বের সময় কাজে হাজির হয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শাটডাউন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আমরা আশা করছি, এই অর্থায়ন-বিরতি খুব স্বল্পস্থায়ী হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান সদস্যদের বিলটির পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ডিএইচএস-এর জন্য বরাদ্দ দুই সপ্তাহের সময়ের মধ্যেই নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালাতে চান আইনপ্রণেতারা। ডেমোক্রেটদের দাবি, অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমে নতুন নীতিমালা ও কড়া নজরদারি আরোপ করতে হবে।
সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, আমাদের আইসিই-কে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং সহিংসতার অবসান ঘটাতে হবে। এর অর্থ হলো ভ্রাম্যমাণ টহল বন্ধ করা, স্পষ্ট নিয়ম, তদারকি ও বিচারিক পরোয়ানা নিশ্চিত করা। মুখোশ খুলতে হবে, ক্যামেরা চালু রাখতে হবে এবং কর্মকর্তাদের দৃশ্যমান পরিচয়পত্র থাকতে হবে। গোপন পুলিশ চলবে না।




