নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম কঠোর করছে সুইডেন
পোস্ট ডেস্ক :

সুইডেন নাগরিকত্বের নিয়ম কঠোর করতে যাচ্ছে বলে সোমবার কেন্দ্র-ডানপন্থী সরকার জানিয়েছে। এর আওতায় আবেদনকারীদের আবেদন করার আগে অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে আট বছর করা হবে, ন্যূনতম আয়ের একটি সীমা নির্ধারণ করা হবে এবং সুইডিশ সমাজ সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
২০১৫ সালের পর থেকে ধারাবাহিক সরকারগুলো অভিবাসননীতি কঠোর করে আসছে। ওই বছর প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার আশ্রয়প্রার্থী সুইডেনে আশ্রয় চেয়েছিলেন।
তবে সংখ্যালঘু জোট সরকারটি মনে করছে, অভিবাসনের বিষয়ে আরো কঠোর অবস্থান নিলে সেপ্টেম্বরের সংসদীয় নির্বাচনে তা ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হবে।
অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই শর্তগুলো বর্তমান অবস্থার তুলনায় অনেক বেশি কঠোর, কারণ বর্তমানে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যত কোনো শর্তই নেই।’
সরকার জানিয়েছে, সুইডিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের দেশটিতে আট বছর বসবাস করতে হবে, যা বর্তমানে পাঁচ বছর। পাশাপাশি তাদের মাসিক আয় ২০ হাজার সুইডিশ ক্রোনারের বেশি হতে হবে এবং ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
ফোরসেল বলেন, ‘আপনি যদি নাগরিক হতে চান, তবে সুইডেন রাজতন্ত্র না প্রজাতন্ত্র—এটা জানা যুক্তিসংগত বলেই মনে হয়।’
সুইডেন বা বিদেশে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তাদের আবেদন করার আগে আরো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, কেউ যদি চার বছরের কারাদণ্ড ভোগ করে থাকেন, তবে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে তাকে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
সংখ্যালঘু জোট সরকারকে সমর্থন দেওয়া অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলটি বলছে, তাদের মতে কয়েক দশকের ব্যর্থ অভিবাসন নীতির কারণেই দেশে গ্যাংভিত্তিক অপরাধের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে।
নতুন নিয়মগুলো ৬ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে সরকার জানিয়েছিল, তারা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্যও নিয়ম কঠোর করবে।




