পাকিস্তান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনা
পোস্ট ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, পাকিস্তান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ওয়াশিংটন দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। বুধবার হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপকমিটিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর পাকিস্তানের আঞ্চলিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। এতে বলা হয় পল কাপুর আরও বলেছেন- পাকিস্তান এ অঞ্চলে আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রাথমিক অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের দক্ষতার সমন্বয় আমাদের দুই দেশেরই উপকারে আসবে।
অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গে কাপুর বলেন, জ্বালানি ও কৃষিখাতে আমাদের বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হচ্ছে। নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন। বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী চলমান সহযোগিতা পাকিস্তানকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করছে। একই সঙ্গে এমন আন্তঃদেশীয় বিপদ মোকাবিলায় সাহায্য করছে যা যুক্তরাষ্ট্র বা আমাদের অংশীদারদের ক্ষতি করতে পারে। প্রশ্নোত্তর পর্বে আইনপ্রণেতারা জঙ্গিবাদ, পাকিস্তানের অতীত নিরাপত্তা কৌশল এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এক কংগ্রেস সদস্য কাপুরের গবেষণাকর্মের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তার বইয়ে পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তিনি জানতে চান, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো কি যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় রয়েছে? জবাবে কাপুর বলেন, তার বইয়ের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের কৌশল ও রাষ্ট্রের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা। তিনি বলেন, সুসংগঠিত বা কাঠামোবদ্ধ রূপে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ নেই। তবে পৃথক ব্যক্তি যে কোথাও থাকতে পারে, সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো অল্পসংখ্যক ব্যক্তি সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে থাকতে পারে। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের চীন নীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে কাপুর বলেন, এমন একটি ভারত, যা স্বাধীনভাবে উন্নয়ন করতে পারে, নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখতে পারে এবং কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখে, তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পক্ষে। তিনি বলেন, বৃহত্তর লক্ষ্য হলো চীন বা অন্য কোনো একক প্রভাবশালী শক্তিকে অঞ্চলজুড়ে আধিপত্য বিস্তার বা প্রভাব খাটাতে না দেয়া। একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব সীমিত করতে সহায়ক। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রসঙ্গে কাপুর বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং স্বাধীন সামরিক সক্ষমতা বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতাকে সীমিত করে।
উপকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হতে হবে বিস্তৃত ও মূল্যবোধনির্ভর। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের কৌশল হতে হবে সমন্বিত- শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের ভিত্তিতে। ডেমোক্রেট সদস্যদের উদ্বেগ ছিল সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে। উপকমিটির র্যাংকিং সদস্য কংগ্রেসওম্যান সিডনি কামলাগার-ডোভ স্মরণ করিয়ে দেন যে, মে মাসে ভারত ও পাকিস্তান দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছিল, যা প্রায় ২০০ কোটি মানুষের আবাসস্থল অঞ্চলে পারমাণবিক উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতির অপরিহার্য ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেয়ার কথা ছিল। তবে তার মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নেয়া এবং কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিষয়টিকে আড়াল করে দিয়েছে।




