বিয়ানীবাজারে পদধারী নেতাদের ষড়যন্ত্র আটকাতে পারেনি ধানের শীষের বিজয়!
সিলেট অফিস :

নিজ দলের প্রার্থীর ভরাডুবি দেখতে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে পারেনি সিলেট ৬ আসনের (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) সিলেট জেলা ও বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির পদধারী কয়েকজন নেতা। নির্বাচন পরবর্তী কারো বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সহযোগিতা করা, আবার কারো বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে সহযোগিতা করাসহ নানা অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে চলছে রীতিমতো যুদ্ধ। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অভিযুক্তরা মুখ খুলছেন না।
জেলা বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির পদধারী কয়েকজন নেতার আচরণ মূল থেকেই তাদের সন্দেহ হয়েছিল তাদের। এসব নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে নালিশ করার প্রক্রিয়া চলছে। কেন্দ্রের আদেশক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওই নেতা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সিলেট-৬ আসনের বিয়ানীবাজার উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৩৭৮১৮ এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের প্রাপ্ত ভোট ৪১৮২৫। এই উপজেলায় ধানের শীষের চেয়ে দাঁড়িপাল্লা ৪০০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়।
তবে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১০৩টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৬০১১৮ এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের প্রাপ্ত ভোট ৪৭৩৮৩। এখানে দাঁড়িপাল্লার চেয়ে ধানের শীষের প্রার্থী ১২৭৩৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন।
বিভিন্ন সূত্রে জানাযায়, সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরী ও জেলা বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী। কিন্তু দলটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীকে সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে। এরপর থেকে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর পক্ষ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা শুরু করেন। এ নিয়ে দলীয় ভাবে আলোচনা সমালোচনা শুরু হলেও সরোয়ার ও তার অনুসারিরা থেমে থাকেন নি। এর এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাদের মুল প্রার্থী এডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীকে তাদের প্রার্থী রেখে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ফয়সল আহমদ চৌধুরীর হাতে একখানা পত্র ধরিয়ে দেয়। এরপর ফয়সল আহমদ চৌধুরীর পক্ষ নেন বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজাসহ দলের অসংখ্য নেতাকর্মী। তারা ফয়সল আহমদ চৌধুরীর সাথে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন। পরবর্তীতে আবার দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীকে চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করলে মনোক্ষুন্ন হন ফয়সল চৌধুরী অনুসারিরা।
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনা পালনে লোক দেখানো প্রচারণায় অংশ নেন ফয়সল আহমদ চৌধুরীসহ তার অনুসারিরা। অভিযোগ রয়েছে, মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভে দু:খে তারা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় দেখতে গোপণে কাজ শুরু করেন। মাঝে মধ্যে প্রার্থীর পক্ষে মাঠে এসব নেতাদের দেখা গেলেও তাদের মিশন ছিল ভিন্ন এ অভিযোগ খোঁদ বিজয়ী প্রার্থী এডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীর। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমদ রেজা, সাধারন সম্পাদক সরোয়ার হোসেনকে বিষয়টি নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মন্নানের ভোট কেন্দ্র, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমদ রেজা, সাধারন সম্পাদক সরোয়ার হোসেনের ইউনিয়নসহ বিএনপির পদদারী অনেক নেতার ভোট কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ একটি বলয় জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে গোপণে কাজ করলেও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বলয় একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে গোপণে কাজ করেন। সরোয়ার হোসেন জেলা বিএনপি নেতা ফয়সল চৌধুরীর অনুসারি। তাই ফয়সল আহমদকে তার কর্তৃত্ব দেখাতে বিএনপি প্রার্থীকে ফেল করানোর মিশন তিনি হাতে নেন বলে সূত্রটি দাবী করে।
এদিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিক আহমদ সম্প্রতি একটি অনলাইন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে এসব নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোধাগার করেন এবং দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করাতে উপজেলা বিএনপির পদধারীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। ছিদ্দিক আহমদ বলেন, একেকজন নেতা একেকজনের এজেন্ট হয়ে প্রকাশ্যে কিংবা গোপণে কাজ করেছেন। যার ফলে বিয়ানীবাজার উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী আশানুরুপ ভোট পাননি তবে গোলাপগঞ্জবাসী সম্মান রক্ষা করায় এডভেঅকেট ইমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়ে আজ সংসদে যেতে পেরেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজাকে ফোন করলে তিনি জানান, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা বিএনপি কাজ করেছে। বিয়ানীবাজারে জামায়াত ইসলামী প্রার্থীর বাড়ী হওয়ায় তিনি ধানে শীষের প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।




