প্রিন্স অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার : রাজপরিবার আইনের ঊর্ধ্বে নয়

Published: 19 February 2026

পোস্ট ডেস্ক :

যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ রাজতন্ত্রপন্থী জনগণ বৃহস্পতিবার সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দণ্ডিত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে তিনি জনসমাজে একঘরে হয়ে পড়েছিলেন। অনেকে বলেছেন, রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাইকে আটক করা উচিত ছিল এবং এটি প্রমাণ করেছে যে রাজপরিবার আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর নামে পরিচিত অ্যান্ড্রুকে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অসদাচরণের সন্দেহে আটক করা হয়। নতুন প্রকাশিত মার্কিন নথিতে সম্ভাব্য গোপনীয় প্রতিবেদন এপস্টেইনের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছিল—এমন তথ্য সামনে আসার পর পুলিশ তার দুটি সম্পত্তিতেও তল্লাশি চালায়। এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর কার্যকলাপ নিয়ে বহু বছর ধরে অভিযোগ ও বর্ণনার পর ব্রিটিশ জনমনে যে গোপন আনন্দ বা তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরেন আইনজীবী এমা কার্টার। লন্ডনের পূর্বে এসেক্সের ৫৫ বছর বয়সী এই নারী হাসতে হাসতে বলেন, অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার ‘প্রাপ্য’। ‘তিনি বহু বছর ধরে তার বিশেষ সুবিধা ও রাণীর জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘সত্যি বলতে তাকে অনেক আগেই গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল। তিনি সম্পূর্ণভাবে তার অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন।’ ৫৯ বছর বয়সী ম্যাগি ইয়েওও হাসিমুখে এ সংবাদকে স্বাগত জানান। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি ভাবতাম তারা (রাজপরিবার) অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এখন জানা গেল তারা ন্যায়ের ঊর্ধ্বে নয়। অন্তত ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থা কাজ করছে।’ ইয়েও বলেন, তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্য দুঃখিত, যিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে পুলিশকে তদন্ত চালাতে দেওয়া উচিত। ‘তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। সম্ভবত তিনি তার ভাইয়ের অতীত সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। ৩৯ বছর বয়সী তথ্য বিশ্লেষক জেনিফার টিসোও এ গ্রেপ্তারের বার্তাকে স্বাগত জানান। টিসো বলেন, ‘সে যা করেছে তার জন্য তার জবাবদিহি করা ভালো। শুধু রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে বা সাধারণ মানুষের তুলনায় ভিন্ন আচরণ পাবে—এটা আমি মনে করি না।’ তিনি বলেন, ‘সময় হয়েছে। এর আগে রকস্টার ও সুপারস্টারদের ক্ষেত্রে হয়েছে, আর এখন তা উচ্চ ক্ষমতার জায়গা, যেমন রাজপরিবার পর্যন্ত পৌঁছেছে।’ অ্যান্ড্রু সব সময় কোনো অনিয়ম অস্বীকার করেছেন। যদিও ভার্জিনিয়া জিউফ্রে তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনলে তিনি কোনো দায় স্বীকার না করেই বহুমিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধে সমঝোতায় পৌঁছান।