জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় যারা

Published: 22 February 2026

পোস্ট ডেস্ক :


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে দলীয় প্রতীকে রেকর্ডসংখ্যক ৬৮টি আসন পেয়েছে। সে অনুপাতে এবার ১১টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে দলটি।

বর্তমান আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি পেতে পারে ৩৫টি, জামায়াত ১১টি এবং এনসিপি একটি আসন। বাকি তিনটি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।

জামায়াত যদি জোট সঙ্গী হিসেবে এনসিপিকে একটি আসন দেয় তাহলে দলটির দুজন নেত্রী সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
জামায়াত জানায়, মনোনয়নের জন্য তারা প্রার্থী যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, আইনজীবী ও জামায়াতের নারী বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনায় আছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বসবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা এখনো কাউকে চূড়ান্ত করিনি। তবে আলোচনা আছে। এটা নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বসছে। আমাদের ১১ দলীয় জোটের মধ্যে চারটি দলের সংসদ সদস্য আছেন।

এক্ষেত্রে এনসিপি একটি আসনে নারী সংসদ সদস্য পাবে।’
এনসিপির কোনো নারীকে জামায়াতের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আলোচনায় আছে। আমরা এটা নিয়ে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। সব দল মিলে বসে এটা নিয়ে একোমোডেট করব।’

জামায়াত সূত্র জানায়, প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি আইনজীবী সাবিকুন্নাহার, সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম এবং মহিলা বিভাগের সদস্য ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ।

এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীরাও রয়েছেন আলোচনায়। জামায়াত আমিরের স্ত্রীসহ একাধিক শীর্ষ নেতার স্ত্রী মনোনয়ন পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের স্ত্রী আমেনা বেগম এ তালিকায় অগ্রাধিকার পেতে পারেন, যিনি আগেও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন জামায়াতের হয়ে। নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী হাবিবা রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী জামায়াত থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নারী বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন আছেন আলোচনায়।

জামায়াতের নারী বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, ‘ধার্মিকতা, যোগ্যতা ও সৃজনশীল মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যাদের কথা শোন যাচ্ছে, তাদের কেউ কেউ থাকবেন, কেউ থাকবেন না। চূড়ান্ত না হলে তো নাম বলতে পারছি না। মনোনয়ন তো ১১ জনকে দেওয়া হবে। তবে আমরা নারী বিভাগের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জনের বেশি লিস্ট আমিরে জামায়াতকে দিয়েছি। নির্বাহী পরিষদের মিটিংয়ে সেটা যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’