আর্জেন্টিনার ফুটবলে তোলপাড়, ধর্মঘটের ডাক ক্লাবগুলোর
পোস্ট ডেস্ক :

ফুটবলের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অথচ তাদের দেশের ক্লাব ফুটবলে বেশ কিছুদিন ধরেই তোলপাড় চলছে।
যদিও তা মাঠের কোনো ঘটনায় নয়, আদালতের এজলাস আর কর দপ্তরের নথিতেই যেন খেলাটা বেশি জমজমাট হয়ে উঠেছে। আর এর জের ধরেই আর্জেন্টাইন ফুটবল লিগের নবম রাউন্ডের সব খেলা স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল লিগ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
মূলত দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার প্রতি সংহতি জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর ফাঁকির অভিযোগে তাপিয়ার দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও লিগ কর্তৃপক্ষ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত চলছে জানিয়ে গত সপ্তাহে তাপিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন আদালত। কিন্তু গতকাল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বদলে তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘শুধু তদন্ত চলছে বলেই কারও বিদেশভ্রমণে বাধা দেওয়া যায় না।’
দেশটির কর কর্তৃপক্ষের দাবি, এএফএ খেলোয়াড় ও কর্মীদের অবসর ভাতার টাকা আটকে রেখেছে এবং ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৯ বিলিয়ন পেসো (প্রায় ১৬৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা) কর পরিশোধ করেনি।
এর সঙ্গে আছে অর্থ পাচারের অভিযোগও। গত ডিসেম্বরে এএফএর সদর দপ্তর ছাড়াও রেসিং, ইন্দিপেন্দিয়েন্তে ও সান লরেঞ্জোর মতো ক্লাবে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
এর মধ্যেই তাপিয়া আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন কলম্বিয়ার বারানকিয়ায় ফুটবল ফেডারেশনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এবং পরে রিও ডি জেনিরোতে কনমেবল বোর্ড সভায় অংশ নিতে। আদালত ৫০ লাখ পেসো জামিনের শর্ত সাপেক্ষে সেই অনুমতি দিয়েছেন। তবে আগামী ৫ মার্চ তাপিয়া এবং এএফএ কোষাধ্যক্ষ তোভিগিনোসহ আরো তিন কর্মকর্তাকে আদালতে তলব করা হয়েছে।
এতে আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৫ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত লিগ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। মূলত তাপিয়াসহ এএফএর কর্মকর্তাদের আদালতে হাজিরার দিনটিকেই প্রতিবাদের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
এএফএ এই পুরো ঘটনাকে তাদের বিরুদ্ধে এক ‘নোংরা অপপ্রচার’ হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, দেশটির ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সরকার এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে। মিলেই চাইছেন অলাভজনক এই ফুটবল ক্লাবগুলোকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করতে, যা এএফএর বর্তমান নীতিমালার পরিপন্থী।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ছবি: এএফএ
সরকার সমর্থিত আইনপ্রণেতা সিলভানা গিউদিচি অবশ্য এর জবাব দিয়ে বলেছেন, ‘এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। আশা করি, ক্লাবগুলো এই ব্যক্তিদের (তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ তোভিগিনো) কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে না।’




