ট্রিওআর্টস এর অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

Published: 26 February 2026


লন্ডন: ভাষা শহীদদের স্মরণে গত ২২শে ফেব্রুয়ারী ঘরোয়া ভাবে পালিত হলো লন্ডনের থিয়েটার অর্গানাইসেসন ট্রিওআর্টস এর মহান শহীদ দিবস ‘অমর একুশে’ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬। রমজানের কারণে অতি স্বল্প পরিসরে এই আয়োজন সম্পন্ন করা হলেও তাতে ছিল পেশাদারিত্বের ছোঁয়া। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক ও কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর লেখা “কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি” কবিতাটির মাধ্যমে। এটি ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা, তাই এই কবিতাটি দিয়ে রুবাইয়াৎ শারমীন ঝরা আবারো সকলকে মনে করিয়ে দেন এই ভাষা উদ্ধার করতে কত তরুণ প্রাণ উৎসর্গিত হয়েছে। কবিতার সাথে ছিল প্রদীপ শিখার প্রজ্বলন, যেখানে দলের সকল সদস্যরা প্রদীপ নিয়ে মহান শহীদদের উদ্দেশ্যে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আলো বিকিরণ যন্ত্রের দ্বারা দেখান হয় একুশের স্মৃতি। তারপর দলীয় সংগীতের মাধ্যমে আবারও শহীদদের স্মরণ করা হয় এবং সঙ্গীতে মেহবুবা লিথির নেতৃত্বে অংশ গ্রহণ করেন – শায়লা শারমিন, কাজী ফারহানা আখতার, বাদল রহমান এবং নিনি রহমান। ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়’ এই কালজয়ী গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে বাফা ইউকে’র শিশু শিল্পী দেবিনা রায় এবং এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী শতাব্দী রায়। বাদল রহমান আবৃত্তি করেন কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র ‘কোন এক মাকে’ কবিতাটি। তারপর দলের পক্ষ থেকে ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ দলীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

এরপর দর্শক সারির মধ্যে থেকে ঊর্মি মাযহার তাঁর চমৎকার আবৃত্তি শোনান কবি দাউদ হায়দারের ‘একুশ’ কবিতা থেকে এবং সবশেষে ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলার’ আন্দোলন, এবং ষাটের দশকের অমর একুশে ও প্রভাতফেরি উদযাপনের অভিজ্ঞতার গল্প – সাংবাদিক এবং লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান এর কাছ থেকে। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।তিনি স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ—যা ছিল একটি জাতির মুক্তির মহামন্ত্র। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডামি রাইফেল হাতে তরুণদের প্রস্তুতি, গোপন ট্রেনিং, অজানা ভবিষ্যতের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ার দুর্বার সাহস—সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস সময়ের কথা তুলে ধরেন মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান।

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান ট্রিওআর্টস-এর কর্ণধার রুবাইয়াৎ শারমীন ঝরার হাতে তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত বিজয়ের চল্লিশ বছর পূর্তির স্মারক নোট—যেন ইতিহাসের প্রতি সম্মান, সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রজন্মান্তরের হাতে তুলে দেওয়া এক গৌরবময় উত্তরাধিকার। এই সম্মানে ট্রিওআর্টস এর সদস্যরা আবু মুসা হাসানের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।
অনুষ্ঠানের শেষে ছিল ইফতার পর্ব। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, মেসবাহ শহিদ, মাসুদ জামান, বাদল রহমান, অপু চৌধুরী ও আয়হাম শহীদ।


একুশ আড্ডায় অতিথিদের মধ‍্যে উপস্থিত ছিলেন, সাপ্তাহিক সত্যবাণী’র সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, বার্তা সম্পাদক নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বার্কিংসাইড ওয়ার্ডে লেবার দলের প্রার্থী সৈয়দা কলি পাশা, সংস্কৃতিকর্মী শাহাব আহমেদ বাচ্চু এবং আব্দুল আজিজ, নৃত্যশিল্পী তাবাসসুম মস্তফা রুপা, লোপা রাজ্জাক সহ আরও অনেকে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।