ধর্ষণের পর আমেনাকে মেরেই ফেললো ওরা

Published: 27 February 2026

পোস্ট ডেস্ক :

মাধবদীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় এক তরুণীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম আমেনা
আক্তার (১৫)। গত বুধবার নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বাবার দাবি, আগের ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে বুধবার রাতে মেয়েকে পার্শ্ববর্তী খালার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে রাতের কোনো এক সময় তাকে হত্যা করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদীর কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে হত্যার আগে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আমেনা আক্তার তার সৎ বাবা আশরাফ হোসেনের সঙ্গে বিলপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। পরিবারের অভিযোগ, এরপরও অভিযুক্তরা দফায় দফায় মেয়েটিকে মারধর ও হেনস্তা করে। পুলিশ ঘটনাটি জানলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার কারণে আমেনাকে প্রতিরাতে পার্শ্ববর্তী খালার বাড়িতে রাখা হতো।

বুধবারও আশরাফ হোসেন কর্মস্থল থেকে ফিরে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলে এবং বাবার কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানান। পরদিন সকালে একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ না পেলেও পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।