রণক্ষেত্র ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, পুলিশ সাংবাদিকসহ আহত ৬০
পোস্ট ডেস্ক :

বকেয়া বেতন-ভাতা, শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। এসময় পুলিশ সড়ক খালি করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও শ্রমিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পরেন রূপগঞ্জের ইউএনওসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ। পরে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় এমপি’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। দীর্ঘ অবরোধে মহাসড়কের ২২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
শ্রমিকদের দাবি, কারখানাটিতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। তারা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকপক্ষ কয়েকদিন ধরে আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। প্রতিবাদকারী শ্রমিকদের আটকে রেখে নির্যাতন ও ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজে যোগ না দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশ শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে নিয়ে কয়েক দফা সমঝোতার বৈঠক করে। কিন্তু বকেয়া বেতন, নির্যাতন বন্ধ ও ছাঁটাই সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের ফলে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকা পড়ে। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশ বেশকিছু টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ পিছু হটা শুরু করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য শ্রমিকের আক্রোশের শিকার হন। পরে কারখানার ভেতরে রূপগঞ্জের ইউএনও ও পুলিশের বিভিন্ন ইউটিন এবং কর্তৃপক্ষ আশ্রয় নিলে পরিস্থিতি শ্রমিকদের পক্ষে চলে যায়। সে সময় তারা কারখানা অবরুদ্ধ করে সড়কে ও কারখানার বিভিন্ন অংশে আগুন দেয়। এছাড়াও বাইরে থেকে ইট পাটকেল মারতে থাকে। দুপুর ২টার দিকে রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা এবং স্থানীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকের বকেয়া বেতন, সুচিকিৎসা এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর শুরু হয় সড়কে যানবাহন চলাচল। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ সাংবাদিক শ্রমিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপরদিকে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, আগামীকাল শ্রমিকদের ডিসেম্বরের বকেয়া বেতন এবং চলতি সপ্তাহে আরও দুই মাসের বেতন ও ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ করা হবে।




