চাঁদার দাবিতে সাবেক এমপি মোস্তাফিজের বাড়িতে ফের গুলিবর্ষণ

Published: 28 February 2026

পোস্ট ডেস্ক :


চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ছ’টার দিকে এ ঘটনা ঘটে । এ সময় ৬-৭ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও বাঁশখালী আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এমপি। চাঁদার দাবিতে হামলাকারীরা ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ ও কারাগারে থাকা ছোট সাজ্জাদের সশস্ত্র ক্যাডার বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এদিকে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ এসেছে মানবজমিন’র হাতে। ফুটেজে দেখা গেছে, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বাসার কাছে এসে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোড়ে। একজন দুই হাতে দু’টি পিস্তল চালাচ্ছিল, অন্যরা সাব-মেশিনগান, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান ব্যবহার করেছেন। এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকালে নামাজ শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা গুলি করতে থাকে। নিরাপত্তা গার্ড সন্ত্রাসীদের দেখে পাঁচ-ছয়জন পুলিশ সদস্যকে বিষয়টি জানান। পুলিশ বাসার দোতলায় উঠে প্রতিহতের প্রস্তুতি নিলেও সন্ত্রাসীরা আগেই চলে যায়। তাদের হাতে পিস্তল, চায়নিজ রাইফেলসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল। বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা চাঁদা না পাওয়ায় এই হামলা চালিয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, গত ২রা জানুয়ারির ঘটনার মতো এ হামলায়ও কেউ গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা করলেও কী হবে? পুলিশ এখানে উপস্থিত ছিল।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলযোগে এসে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশে থাকা সাজ্জাদ আলী বা বড় সাজ্জাদের লোকজন এ হামলার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ সাজ্জাদের সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহানকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মনে করছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।বাংলা খবর

সাজ্জাদ আলী খান নগরের চালিতাতলী এলাকার আবদুল গণির ছেলে। ১৯৯৯ সালে কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খুনের পর অপরাধজগতে পরিচিত হন। এরপর ২০০০ সালের ১২ই জুলাই ‘এইট মার্ডার’ নামে পরিচিত হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। বিদেশে চলে যাওয়ার পরও দেশজুড়ে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। সাজ্জাদ বর্তমানে ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ আলীর বাহিনীর কারণে নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজানসহ পাঁচ থানার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন আতঙ্কে বসবাস করছেন। তার অনুসারীরা কখনো আধিপত্য রক্ষার জন্য প্রতিপক্ষকে খুন করছেন, আবার কখনো ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে বাহিনীর নেতৃত্বে আছেন ১৫ মামলার আসামি মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন। পুলিশ বলছে, সাজ্জাদ বাহিনীর অন্তত ৫০ জন সক্রিয় শুটার ও সহযোগী রয়েছে। তারা বিদেশ থেকে ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত নির্দেশনা পাচ্ছেন।