বাগেরহাট ট্রাজেডি
বাগেরহাট ট্রাজেডি
রাজ্জাকের পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন মোংলায়, এলাকায় শোকের মাতম
পোস্ট ডেস্ক :

বাগেরহাটের রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, নিহত আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যদের দাফন শেষ হলেও বাড়িতে থামছে না কান্নার রোল। নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে শেলাবুনিয়া গ্রামের পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রাজ্জাকের ৫ ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনায় তার ২ ছেলে, ১ মেয়ে, ১ পুত্রবধূ ও ৪ নাতি-নাতনি নিহত হয়েছে। বর্তমানে জীবিত আছেন তার ৩ ছেলে ও স্ত্রী। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ এবং মেয়ে আরফা ও ইরাম। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখ। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। অন্যদিকে, কনের পক্ষের নিহতরা হলেন- নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম। এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আলী আজম বলেন, খুলনা-মোংলা সড়কটি একটি ব্যস্ত মহাসড়ক। প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন এই সড়কে চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ফোরলেন করা হয়নি। যে কারণে প্রায়ই এ সড়কটিতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজট লেগে থাকে। আমরা মোংলাবাসী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিকে ফোরলেন করার দাবির পাশাপাশি মর্মান্তিক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বর আহাদুর রহমান সাব্বির মোংলা পৌর শহরের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু কয়রা উপজেলার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত পরিবারের প্রধান বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার সাংবাদিকদের বলেন, মোংলায় আমাদের বেড়ে ওঠা। আমাদের পৈতৃক বাড়ি কয়রায়। রাজ্জাক ভাই তার মেয়েদেরও বিয়ে দিয়েছেন পৈতৃক ভিটা কয়রা এলাকায়। ছোট ছেলেকেও কয়রাতেই বিয়ে দিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার শেষ হয়ে গেল। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিহত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। ইতিমধ্যে নিহত মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে মোংলা উপজেলার পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে হয়। বুধবার কনের বাড়িতে বিয়ের পর রাত্রী যাপন শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বরপক্ষ মাইক্রোবাসযোগে মোংলায় বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বর-কনেসহ দুই পরিবারের ১৪ জন ছিলেন মাইক্রোবাসে। মাইক্রোবাসটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে মোংলার দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুমড়ে-মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের ১৩ যাত্রী ও চালকসহ ১৪ জন নিহত হয়।




