এবার ঈদের আনন্দ নেই মালয়েশিয়ার ৮০ বাংলাদেশি শ্রমিকের

Published: 16 March 2026

পোস্ট ডেস্ক :


মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক টানা ছয় মাস ধরে বেতন ও ওভারটাইমের টাকা না পাওয়ায় এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মানবিক দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, শ্রমিকদের অভিযোগ, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি গত ছয় মাস ধরে তাদের বেতন ও ওভারটাইম পরিশোধ করেনি। বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ (জেটিকে) অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় তারা বর্তমানে তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। নিজেদের সামান্য সঞ্চয় একত্র করে এবং কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায় কোনোভাবে দিন পার করছেন তারা। তাদের অভিযোগ, মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগে অভিযোগ করার পর কোম্পানির ব্যবস্থাপকরা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং অন্তত আটজন শ্রমিককে জানানো হয়েছে যে তাদের চাকরির চুক্তি নবায়ন করা হবে না। এছাড়া নিয়োগকর্তার অবহেলার কারণে কয়েকজন শ্রমিক তাদের কর্ম পারমিট নবায়ন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে একজন শ্রমিক আবার প্রায় আট মাস ধরে বৈধ কর্ম ভিসা ছাড়াই কাজ করছেন বলে দাবি করেন। শ্রমিকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তারা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অন্যত্র কাজের সুযোগ পেতে ‘রিলিজ লেটার’ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

তাদের ভাষ্য, দেশে থাকা পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় আসতে নেওয়া ঋণও পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা এখন তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে কোম্পানির মুখপাত্র ল’ ইয়িক হুই ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে কে জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিকদের উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান অবগত রয়েছে এবং শ্রম বিভাগের (জেটিকে) মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কোম্পানি বেতন দিতে অস্বীকার করেনি এবং আইন অনুযায়ী সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে কোম্পানির মুখপাত্রের বরাতে আরও জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের জন্য খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং খাবার কেনার জন্য কিছু আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং একটি সমঝোতার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।