ময়মনসিংহ ৪ ও ৬ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে দুই প্রার্থী হাইকোর্টে

Published: 16 March 2026

পোস্ট ডেস্ক :


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আরও দুই প্রার্থীর করা পৃথক নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন।

আবেদনকারী দুই প্রার্থী হলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আখতারুল আলম।

আদালতে কামরুলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও আখতারুলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. শামীম দরজী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

হাইকোর্ট নির্বাচনী আবেদন দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুনানির জন্য আগামী ২২ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামরুল আহসান ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮০ ভোট পান।

ময়মনসিংহ-৪ আসনে ভোটে কারচুপি ও অনিয়ম অভিযোগ নিয়ে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ কামরুল আহসান নির্বাচনী আবেদনটি করেন বলে জানান তাঁর আইনজীবী মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্স ও নির্বাচনীসামগ্রী হেফাজতে নিয়ে সংরক্ষণ করতে ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামরুল হাসান ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট পান। আর বিএনপির মো. আখতারুল আলম পান ৪৯ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন।

আসনটিতে ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে আখতারুল আলম নির্বাচনী আবেদনটি করেন বলে জানান তাঁর আইনজীবী মো. শামীম দরজী।

নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন। নির্বাচনসংক্রান্ত আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানির জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৩৬ প্রার্থীর পৃথক ৩৬টি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি ১৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। এ সময়ে দেওয়ানি বিষয়াদির সঙ্গে নির্বাচনী আবেদনপত্র শুনানি-নিষ্পত্তির জন্য এই বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বেঞ্চে দুটি নির্বাচনী আবেদন আজ শুনানির জন্য গৃহীত হলো।