মাঝ আকাশে মৃতদেহের সঙ্গে ১৩ ঘণ্টা কাটালেন উড়োজাহাজের যাত্রীরা

Published: 22 March 2026

পোস্ট ডেস্ক :


ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের লন্ডনগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রীরা একটি মৃতদেহের সঙ্গে ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছেন। গত ১৫ মার্চ হংকং থেকে লন্ডনগামী একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। দ্য সান, ডেইলি এক্সপ্রেস এবং দ্য স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হংকং থেকে ফ্লাইট বিএ৩২ উড্ডয়নের প্রায় এক ঘণ্টা পর উড়োজাহাজের ভেতরে ষাটোর্ধ্ব এক নারী মারা যান।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একজন মুখপাত্র পিপলেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে একজন যাত্রী বিমানে মারা গেছেন এবং এই কঠিন সময়ে আমরা তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

আমরা আমাদের ক্রুদের সহায়তা করছি এবং সমস্ত নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।’
ওই নারীর মৃত্যুর পর একটি সূত্র দ্য সানকে জানায়, ‘পরিবার এবং ক্রু উভয়েই উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে পরিস্থিতিটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, কারণ ওই যাত্রী ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছিলেন।’

সূত্রটি জানায়, লাশটি নিয়ে কী করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

ফ্লাইট ডেক থেকে সেটিকে একটি টয়লেটে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ক্রুরা তা মানেনি। পরে তারা লাশটি আলাদা করে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মুড়িয়ে বিমানের পেছনের একটি গ্যালিতে নিয়ে যায়। সূত্রটি আরো জানায়, গ্যালির মেঝে গরম করার ব্যবস্থা চালু ছিল, যা কিছু ক্রু খেয়াল করেনি। ফলে ফ্লাইটের শেষ দিকে ওই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায় বলে অভিযোগ ওঠে।
সূত্রটি জানিয়েছে, বিমানটি অবশেষে লন্ডনের হিথ্রোতে অবতরণ করে এবং পুলিশ তদন্তের জন্য বিমানে ওঠে। যাত্রীদের ৪৫ মিনিট ধরে তাদের আসনে বসিয়ে রাখা হয়। আমস্টারডামের শিফোল বিমানবন্দর এর মর্চুয়ারিয়াম শিপোলের সমন্বয়কারী বেন ভস মৃত যাত্রীদের মরণোত্তর পরিচর্যার ব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করেন।

তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সিএনএনকে বলেন, ‘একটি বিশেষ গাড়ি সরাসরি বিমানের কাছে আসে। আমরা বিমান থেকে নেমে সরাসরি সেই গাড়িতে যেতে পারি, তাই বিমানবন্দরে আমরা কী করি তা অনেকেই দেখে না।


সেখান থেকে একটি ছোট দল কঠোর নিয়ম মেনে মৃত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য সংস্থায় পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়। এতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করা, যদি কোনো অঙ্গ দান করতে হয় তবে চিকিৎসা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং পরিবারের সঙ্গে সমাধি বা দাহ সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করা হয়।