প্রেসিডেন্ট কি তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেলেন?

Published: 22 March 2026

পোস্ট ডেস্ক :


মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন তার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন নির্বাচনের পর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যাবেন। তখন নির্বাচন নিয়ে দেশে টানটান উত্তেজনা। কে জেতে, কে হারে এ নিয়ে নানা হিসেব-নিকেশ। চারদিকে একই আওয়াজ জামায়াতে ইসলামী অনেকটা নাটকীয়ভাবে ক্ষমতার মসনদে চলে যেতে পারে। দেশের আনাচে-কানাচে এই ধারণাই প্রবল হয়ে উঠছিল । বঙ্গভবনের চারদেয়ালে বন্দি প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের কানেও এই খবরটি পৌঁছেছিল। ধারণা করা যায়, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। খবরটি তখন নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছিল। নির্বাচনে বিএনপির জয়ে সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই ফলাফল ছিল প্রত্যাশিত। তারা এটাও বলছেন, দলীয় কোন্দল আর মনোনয়ন বাণিজ্য না হলে আরও ৩০টি আসনে জয় তাদের সুনিশ্চিত ছিল। বিশেষ করে যশোরের ফলাফল সেই ইঙ্গিতই দেয় ।

 

যাইহোক, নির্বাচনের ফলাফল দেখে প্রেসিডেন্ট কি তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেলেন? যদিও তিনি এই মুহূর্তে স্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। তিনি মুক্ত, সাংবিধানিক পদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন। সংসদে বক্তৃতা করছেন। বঙ্গভবনে নানা আয়োজন চলছে। তার প্রেস সেকশনও বহাল। অন্তর্বর্তী প্রশাসন তাকে অনেকটা ঘরবন্দি করেছিল। অন্তত তিনবার মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানা তৎপরতা চলছিল। তখনকার আইন উপদেষ্টা নেপথ্যে অনেক ভূমিকা রেখেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সবুজ সংকেত পেয়ে উপদেষ্টারা প্রেসিডেন্টের অপসারণে নানা খেলায় লিপ্ত ছিলেন। যদিও বিএনপি তখন ছিল ভিন্ন স্রোতে। তারা বরাবরই সাহাবুদ্দিন নয়, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে কড়া অবস্থান নিয়েছিল। তারা বলেছিল, প্রেসিডেন্টের অপসারণে তাদের কোনো মত নেই। এই কারণে প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সব নকশা ভন্ডুল হয়ে যায়।

বিপ্লবী সরকার গঠনের চেষ্টাও ছিল। পর্দার আড়ালের এক ‘রহস্যপুরুষের’ ইন্ধনে বারকয়েক মব সন্ত্রাসও চালানো হয়। সেই পুরুষ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। নির্বাচনে প্রশাসনিক ক্যুয়ের চেষ্টা সফল না হলেও কোনো কোনো অঞ্চলে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর ছিল– এমনটি বলা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন নির্বাচনের ফলাফল দেখে যারপরনাই খুশি হয়েছেন। অন্য ফলাফল হলে তাকে অপমানিত হয়ে বিদায় নিতে হতো। যেটা তিনি রয়টার্সকে বলতে কসুর করেননি। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির আপাতত কোনো তাগিদই দেখা যাচ্ছে না। তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা বলছেন। যে কারণে কে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বা কাকে বানানো হচ্ছে তা নিয়ে কোনো জল্পনা-কল্পনা নেই। আওয়াজ নেই পার্টির ভেতরে এবং বাইরে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়- এটা নতুন করে বলার কিছু নেই।