ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা করবে না ইসরায়েলও

Published: 23 March 2026

পোস্ট ডেস্ক :


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুসরণ করে ইসরায়েলও ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ইসরায়েল সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (২৩ মার্চ) এমন তথ্য জানায় টাইমস অব ইসরায়েল।

এর আগে নিজের স্যোশাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ স্যোশালে এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ দিন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো হামলা চালাবে না। তিনি লেখেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের পারস্পরিক বৈরিতার সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে।


এমন প্রেক্ষাপটে ইউএস ওয়ার ডিপার্টমেন্টকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান ট্রাম্প।

এমন ঘোষণার পর ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিকল্পনা সম্পর্কিত একটি সূত্র টাইম অব ইসরায়েলকে জানায়, তারাও ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনার বিষয়ে অবগত। ইসরায়েল সম্ভবত ওয়াশিংটনের পথ অনুসরণ করে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখবে।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তেহরানের কোনো ধরনের সরাসরি যোগাযোগের তথ্য উড়িয়ে দিয়েছে।

এমনকি কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও এমন আলোচনা হয়নি বলে তারা দাবি করেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক এক্স পোস্টে দাবি করে, ‘ইরানের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ট্রাম্প তার ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম থেকে পিছু হটেছেন।’

এরপরে কাবুলে ইরানের দূতাবাসও এক্স হ্যান্ডেলে একই ধরনের পোস্ট দেয়। এতে বলা হয়, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র স্পষ্ট করেছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে তেহরান পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

এই হুমকির পরেই ট্রাম্প পিছু হটে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন।’
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিণাম হবে ভয়াবহ। তেহরান সেক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও খাবার পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাসহ পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালাবে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় তুরস্ক সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।