যুবদল নেতা খুন, অস্ত্রসহ দুই শুটার গ্রেপ্তার

Published: 27 March 2026

পোস্ট ডেস্ক :


রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যায় কিলিং মিশনে অংশ নেয়া দুই শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার মধ্যরাতে ঢাকার রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিং ও উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শুটার মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০)। র‌্যাব বলছে, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সরাসরি কিলিং মিশনে ছিল। ঘটনার পর তারা পলাতক ছিল এবং অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছিল তারা। শুক্রবার মিরপুর র‍্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির।ব্রেকিং নিউজ ফিড

তিনি বলেন, গত ১৭ই নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২, ব্লক-বি, বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার দোকানে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা পিস্তল দিয়ে বুকে ও পিঠে অতর্কিত গুলি করে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া (৫০) কে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে পলানোর সময় স্থানীয় জনতার ওপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গুলি করে এবং এতে একজন রিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরপরই র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং আনুষঙ্গিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। কিন্তু কিলিং মিশনে অংশ নেয়া শুটাররা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল।

মো. শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, এ ঘটনায় পলাতক শুটারদের ধরার জন্য র‌্যাব-৪ ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে র‌্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, পলাতক শুটার লোপন ও কাল্লু দেশ ত্যাগ করার জন্য ঢাকায় এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল শুক্রবার মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগরীর রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া অন্যতম শুটার মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং উত্তরা ১৮ সেক্টর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০) কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি লোপনের দেয়া তথ্যমতে তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি বিদেশি রিভলবার ও ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। আসামিরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিজেদের শনাক্ত এবং কিলিং মিশনে অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়াও তারা জানায় যে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্‌্‌ড যাতে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা পেশাদার শুটার এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা রয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের কাছ থেকে আমরা যে ডিভাইসগুলো পেয়েছি, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পাই যে আসামিদের মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে বেশ জনপ্রিয় একজন নেতা ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও খুবই উজ্জ্বল ছিল। তিনি হয়তো পরবর্তীতে পল্লবী থানা বিএনপি’র বড় কোনো পদে যেতে পারতেন। মশি যে ঝুট ব্যবসা, হাউজিং ব্যবসা, ডেভলপার ব্যবসা, ফুটপাথের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন এগুলোতে কিবরিয়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এর কারণেই কিবরিয়াকে তারা সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ই নভেম্বর চাঞ্চল্যকর গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল (৩০) এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও ১৮টি মামলার আসামি সন্ত্রাসী মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজন (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব-৪। শুটারদের অস্ত্র দেয়া এবং নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার জন্য রেসকিউ টিমে ছিল ভাগিনা মাসুম। অস্ত্রগুলো সরবরাহ করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্বে ছিল পাতা সোহেল। আর নিহত কিবরিয়াকে নজরদারি করার কাজে নিযুক্ত ছিল সুজন। সবকিছু বিবেচনা করে দেখা যায় এই কিলিং মিশনে ছয় থেকে সাত জন জড়িত ছিল।