২ মার্কিন যুদ্ধবিমান যেভাবে ভূপাতিত করল ইরান

Published: 4 April 2026

পোস্ট ডেস্ক :


ইরানের হাতে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গত ২০ বছরের বেশি সময়েও এমন ঘটনা ঘটেনি। এটি দেখিয়ে দেয় যে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ বলে দাবি করলেও দেশটি এখনও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় যুদ্ধবিমানগুলোকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই লক্ষ্য নির্ধারণে প্রচলিত রাডারের বদলে অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড (আইআর) সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে উচ্চ কনট্রাস্ট তাপীয় (থার্মাল) ছবি দেখা যায়, যা ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল/ইনফ্রারেড (ইও/আইআর) ট্র্যাকিং সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের অনেক রাডারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, তাই তারা এখন এমন ‘প্যাসিভ সেন্সর’ ব্যবহার করছে, যা বিমানের ইঞ্জিনের তাপ বা ঘর্ষণ থেকে তৈরি হওয়া তাপ শনাক্ত করে।

ইনফ্রারেড সিস্টেম কীভাবে কাজ করে
এটি রাডার ব্যবহার করে না। বিমানের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া তাপ শনাক্ত করে। ‘থার্মাল সিকার’ দিয়ে সবচেয়ে বেশি তাপের উৎসে লক করে। একবার লক হলে ক্ষেপণাস্ত্র সেই তাপ অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। মাজিদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা
ইরানের নিজস্ব তৈরি ‘মাজিদ’ (এডি-০৮) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও এই হামলায় ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। এর বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প-পাল্লার, নিম্ন উচ্চতায় কার্যকর। মোবাইল যান (আরাস-২) থেকে পরিচালিত হয়। রাডার ছাড়া ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে। ৭০০ মিটার থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। সর্বোচ্চ ৬ কিলোমিটার উচ্চতায় কাজ করে। একসঙ্গে ৪টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক ও আঘাত করতে পারে।

কেন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা কঠিন
এফ-১৫ই বা এ-১০-এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমানকে ইনফ্রারেড বা অপটিক্যাল সেন্সর দিয়ে টার্গেট করা খুব কঠিন। কারণ এদের গতি খুব বেশি। দ্রুত কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে। এছাড়া তাপ কমানোর প্রযুক্তি থাকে। বিশেষ আবরণ থাকে। উচ্চ উচ্চতায় ওড়ে, ফলে শনাক্ত করা কঠিন। বিমানগুলো ফ্লেয়ার ও ডিকয় ছুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রকে বিভ্রান্ত করতে পারে, ফলে লক ভেঙে যায়।

আরও দেখুন
ই-পেপার সাবস্ক্রিপশন
ভ্রমণ গাইডবুক
বইয়ের দোকান কুপন
তবুও কীভাবে সফল হলো ইরান
ইরানের সফলতা সম্ভবত নির্ভর করেছে কাছ থেকে আক্রমণ, নিম্ন উচ্চতায় সংঘর্ষ, এমন সময় আঘাত করা, যখন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কম কার্যকর থাকার ওপর। এ ধরনের সুযোগ খুব অল্প সময়ের জন্য তৈরি হয়, তাই এই সাফল্য বিরল।

যুদ্ধের বাস্তবতা: নতুন বার্তা
৩রা এপ্রিল ইরানের আকাশে এফ-১৫ই ভূপাতিত হওয়া এবং আরেকটি বিমান আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ‘পূর্ণ আকাশ নিয়ন্ত্রণের’ দাবি প্রশ্নবিদ্ধ। ইরান এখনও কার্যকর প্রতিরক্ষা বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উল্লেখযোগ্য হামলার তালিকা এরকম- মার্চ ২০২৬ (শুরুর দিকে): একাধিক ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান। ১৩ মার্চ: মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করে। ২৮ মার্চ: আরও ড্রোন ভূপাতিত করে। ৩১ মার্চ: দুইটি এমকিউ-৯ ধ্বংস করে। ২ এপ্রিল: আরও ড্রোন ধ্বংস হয়। ৩ এপ্রিল: এফ-১৫ই ভূপাতিত করে। ৩ এপ্রিল: এ-১০ ওয়ারথগ আঘাতে বিধ্বস্ত হয়।