লক্ষ্মীপুরে ঘুমন্ত ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে বাবার মৃত্যু
পোস্ট ডেস্ক :

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ঘুমন্ত ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নাছির আহমদ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
নাসির অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। সপরিবারে তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকেন।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নাছির ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। গেল বছর আগস্টে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তার বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। বড় ছেলেকে নিয়ে নাছিরের স্ত্রী বেড়াতে যান। গত রাতে তার ছেলে কলেজছাত্র ইমরান ও তার বাবা বাসায় ছিলেন। এরমধ্যে নাছির অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে ছেলে তাকে ওষুধ এনে খাওয়ায়। এরপর সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় নাছির। একপর্যায়ে ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে আসলে প্রতিবেশী স্বপন তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতে যায়। এ সময় নাছির দা দিয়ে স্বপনকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে নাছির নামে আরেকজন তাদেরকে বাঁচাতে যান। কনস্টেবল নাছির তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। পরে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল ৩ তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আহত হন। পরে তাকেসহ আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল নাছির মারা যান।
আহত স্বপন বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়ির মৃত গোলাম রহমানের ছেলে এবং অপর আহত নাছির ওই একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান।
আহত স্বপন ও ইমরানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহত নাছিরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, ‘আহত অবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতাল আনা হয়। এরমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত অন্যদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’




