সৌদি আরবে একদিনে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
পোস্ট ডেস্ক :

মাদক পাচারের দায়ে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ একদিনে দোষী সাব্যস্ত সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, পাঁচজন সৌদি নাগরিক এবং দু’জন জর্ডানির বিরুদ্ধে রাজ্যে অ্যামফেটামিন ট্যাবলেট পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সংস্থাটি জানায়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিবেচনামূলক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। রোববার রিয়াদে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রিয়াদ মাদক সম্পর্কিত মামলায় ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে করা হিসাব অনুযায়ী যা মোট ৬১টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। এ বছর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকরাই বেশি। তাদের মোট সংখ্যা ৩৩। ২০২৫ সালে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো রেকর্ড ছুঁয়েছিল। ওই বছর ৩৫৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে ২৪৩ জনই মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯০ সাল থেকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর এটিই ছিল এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০২৪ সালে ৩৩৮টি মৃত্যুদণ্ড। প্রায় তিন বছর বিরতির পর ২০২২ সালের শেষ দিকে সৌদি আরব আবার মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করে। আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটি একই সঙ্গে ক্যাপটাগন নামের অবৈধ উত্তেজক মাদকের অন্যতম বড় বাজার। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আল-আসাদ-এর আমলে এই মাদক ছিল দেশটির সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য। মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে অতিরিক্ত বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এটি বিশ্বে নিজেদের আধুনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার সৌদি প্রচেষ্টার সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য সৃষ্টি করছে।




