হাসপাতাল ছেড়েই মাস্ক খুললেন ট্রাম্প

Published: 6 October 2020, 8:12 AM

পোস্ট ডেস্ক : বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। করোনাভাইরাসকে সাধারণ ফ্লু আখ্যা দেয়া ট্রাম্প প্রথমে মাস্ক পরার ঘোরবিরোধী ছিলেন। এ নিয়ে তার ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে নিজেই এ মহামারীতে আক্রান্ত হন ট্রাম্প। হাসপাতালে ভর্তি থাকাবস্থায়ই গাড়ি নিয়ে ছুটে বেড়িয়ে বিতর্কের জন্ম দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আবারও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েই বিতর্কের জন্ম দিলেন। হাসপাতাল ছেড়েই মাস্ক খুলে ফেলেন তিনি।

 

স্যুট, টাই ও মাস্ক পরিহিত অবস্থায় স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির উপশহরীয় ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার ছাড়েন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের বারান্দায় ছবি তোলার জন্য দাঁড়িয়ে মাস্ক খুলে ফেলেন তিনি। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, দুই লাখ ১০ হাজার মৃত্যুর পরও বাজেভাবে নিজের অসুস্থতাকে অবহেলা করলেন ট্রাম্প।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট এখনও সুস্থ নন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখনও রয়েছে তার শরীরে। তিনি করোনা নেগেটিভ হননি। তবে ট্রাম্প বলছেন, তিনি সুস্থ। হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে সোমবারই তিনি হোয়াইট হাউস চলে যান। সেখানে ঢুকেই খুলে ফেলেছেন মাস্ক।

পরে এক ভিডিওবার্তায় মার্কিনিদের বলেছেন, করোনা-আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ফিরে যেতে হবে স্বাভাবিক জীবনে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এটাই তার উপলব্ধি। স্বাভাবিক ভাবেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য এবং মাস্ক খুলে ফেলা নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক চলছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে।

গত মার্চে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফি গ্রেগরি ট্রুডো৷ এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে ছিলেন জাস্টিন ট্রুডো নিজেও৷ তবে তিনি বা তিন সন্তানের কেউ করোনা সংক্রমিত হননি৷

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসনও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এতটাই যে তাকে সেনা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল। সেখানে তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়। স্টেরয়েড দেয়া হয়। তবে রোববারেই ট্রাম্প জানিয়ে দেন, তিনি ভালো আছেন। শুধু তাই নয়, করোনা নিয়েই সমর্থকদের হাত নাড়ার জন্য হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েছিলেন তিনি।
বিরোধীদের বক্তব্য, ট্রাম্প গাড়িতে একা ছিলেন না। তার দেহরক্ষী, নিরাপত্তা পারিষদ সবাইকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বের হতে হয়েছিল। করোনা আক্রান্ত একজন মানুষের সঙ্গে এভাবে ঘোরা একেবারেই ঠিক কাজ নয়। ট্রাম্প অবশ্য কোনো বিতর্ককেই পাত্তা দেননি।

সোমবার তিনি হাসপাতাল থেকে ছুটির ব্যবস্থা করেন। সেনা হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউস ফিরেছেন এয়ারফোর্স ওয়ান হেলিকপ্টারে। হোয়াইট হাউসে ঢুকেই মাস্ক খুলে ফেলে ফটোগ্রাফারদের সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি, যা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বহু নাগরিক। বিরোধীরাও প্রেসিডেন্টের নিন্দা করেছেন।

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন টুইট করে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত দুই লাখের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের উচিত মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা মানুষকে বোঝানো। তিনি ঠিক উল্টোটাই করলেন।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৭৪ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার মানুষের। দেশে এত মৃত্যুর মধ্যে নিজে আক্রান্ত হওয়ার পরও করোনা নিয়ে ট্রাম্পের উদাসীনতা বেশ পরিষ্কার। হোয়াইট হাউসেও যে কী পরিমাণ সংক্রমণ ছড়িয়েছে তা স্পষ্ট নয় বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা হোপ হিকসের করোনা শনাক্তের পর গত শুক্রবার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের। ২৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সদ্য নিযুক্ত সুপ্রিমকোর্টের বিচারককে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে সংক্রমণের সবচেয়ে মোক্ষম ক্ষেত্র ধরা হচ্ছে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ পর্যন্ত ট্রাম্পের নিকটবর্তী এমন ১২ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে উপদেষ্টা, সিনেটর ও সাংবাদিক রয়েছেন।