তাহিরপুরে ওরস-স্নানযাত্রায় লাখো মানুষের মিলনমেলা

Published: 19 March 2023

সংবাদদাতা :


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে দুই ধর্মের দুই আধ্যাত্মিক সাধকের ওরস ও স্নানযাত্রায় লাখ লাখ মানুষ সমাবেত হয়েছেন। তাহিরপুরের লাউড়েরগড় সীমান্তের সাহিদাবাদের হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানায় ও রাজারগাঁওর শ্রী অদ্বৈত প্রভুর জন্মধাম সংলগ্ন (পণতীর্থ ধাম) জাদুকাঁটা নদীর তীরে দেশি-বিদেশি ভক্তদের অংশগ্রহণে রোববার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী কয়েক লাখ মানুষের মিলনমেলা।

ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ ভক্ত ওরস ও স্নানযাত্রা উৎসবে যোগ দিতে তাহিরপুরের ওরস স্থল, অদ্বৈত প্রভুর আখড়া বাড়ি, গড়কাটি ইসকন মন্দিরসহ আশপাশের গ্রামীণ হাট বাজার ও গ্রামগুলোতে সমবেত হয়েছেন।

হজরত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানায় ওরস উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র যুগান্তরকে জানায়, ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বাংলাদেশ অভ্যন্তরে সাড়ে ৭শ বছরেরও অধিক সময় ধরে চলে আসা সিলেটের ওলিকুল শিরোমণি হজরত শাহজালালের (রহ.) ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানায় বার্ষিক ওরস উদযাপন রোববার বাদ ফজর মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। ২১ মার্চ বুধবার বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরস সমাপ্ত হবে।

এদিকে উপজেলার রাজারগাঁও শ্রী শ্রী অদ্বৈত প্রভুর জন্মধাম কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সুদর সাড়ে ৭শ বছরেরও অধিক সময় ধরে চলে আসা ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা রাজারগাঁও শ্রী অদ্বৈত জন্মধাম সংলগ্ন জাদুকাঁটা নদীর পণতীর্থ ধামে মঙ্গল আরতির মাধ্যমে রোববার রাত থেকে স্নানযাত্রা মহোৎসব শুরু হবে এবং সোমবার ভোররাতে পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক স্নানযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

স্নানযাত্রায় আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীসহ ২ দিনে প্রায় কয়েক লাখ মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। স্নানযাত্রা উৎসবকে ঘিরে রাজারগাঁও আখড়াবাড়ি ও জাদুকাঁটা নদীর চরে শুক্রবার থেকে বসেছে হরেকরকম খেলনা, খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্থায়ী হাজারও দোকানপাট।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ জানান, ওরস ও স্নানযাত্রা উৎসবকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ভক্ত ও দর্শনার্থী এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োজিত করে পাঁচটি পৃথক অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বসানো হয়েছে।

বিজিবি-২৮ সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ওরস ও বারুনি মেলা উপলক্ষে সীমান্তের সব কয়টি সড়কে বিজিবির নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী জানান, ওরস, মেলা ও স্নানযাত্রায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রস্তুত থাকবে।