সমাজসেবা যখন জিহাদের মর্যাদা পায়
মুফতি সাইফুল ইসলাম

মানুষের সমাজজীবনে সবচেয়ে অবহেলিত ও দুর্বল দুটি শ্রেণি হলো বিধবা নারী ও অসহায় দরিদ্র মানুষ। পরিবার হারানোর বেদনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক উপেক্ষা তাদের জীবনকে করে তোলে কঠিন ও ভারাক্রান্ত। ইসলাম এই অসহায় মানুষের কষ্টকে কেবল মানবিক সহানুভূতির বিষয় হিসেবে দেখেনি; বরং একে ঈমানের পরিপূর্ণতার মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সমাজে যারা নীরবে এসব মানুষের দায়িত্ব বহন করে, তাদের মর্যাদা ও প্রতিদান কতটা মহান—তা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন—
عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ السَّاعِي عَلَى الأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ كَالَّذِي يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ ”.
সফওয়ান ইবনে সুলায়ম হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ’রূপে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে লোক বিধবা ও মিসকীনদের ভরণ-পোষণের ব্যাপারে চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো। অথবা সে ঐ ব্যক্তির মতো, যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে (’ইবাদাতে) দণ্ডায়মান থাকে।
(বুখারি, হাদিস : ৬০০৬)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সমাজসেবাকে ইবাদতের সর্বোচ্চ স্তরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, তিনি বিধবা ও মিসকীনদের ভরণ-পোষণকে কেবল দান বা দয়ার কাজ হিসেবে উল্লেখ করেননি; বরং একে আল্লাহর পথে জিহাদ, অবিরাম রোজা পালন এবং রাতভর ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকার মতো মহিমান্বিত আমলের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি নিঃস্বার্থভাবে সমাজের দুর্বল মানুষদের দায়িত্ব কাঁধে নেয়, তার প্রতিটি চেষ্টা আল্লাহর নিকট ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
এই হাদিস আরো শিক্ষা দেয় যে, ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের দুঃখ লাঘব, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া এবং অসহায়কে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্য দিয়েই ঈমানের বাস্তব প্রকাশ ঘটে।
বিধবা ও মিসকীনদের দেখভাল করা সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে, যা একটি সুস্থ ও ঈমানদার সমাজের মৌলিক ভিত্তি।
অতএব, এই হাদিস মুসলিম সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইবাদতের মর্যাদা পেতে হলে শুধু মসজিদকেন্দ্রিক সাধনায় নয়; বরং সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের জীবনের বোঝা হালকা করাই হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত প্রকৃত ইসলামী পথ।




