শাহ কুতুব জামে মসজিদের খুতবা-পূর্ব আলোচনার খুতবা-পূর্ব আলোচনার সারাংশ (ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব) প্রস্তুতকারী:

Published: 16 May 2026

 ডাঃ মো. আব্দুছ ছালাম


প্রাসঙ্গিকতা
​১. মক্কার প্রতি নবীজির ভালোবাসা ও দেশপ্রেম
​ইমাম সাহেব অত্যন্ত চমৎকারভাবে নবী করীম (সা.)-এর মক্কার প্রতি গভীর ভালোবাসার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ। যখন নবীজি (সা.) মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করছিলেন, তখন তিনি অশ্রুসজল নয়নে মক্কার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, “হে মক্কা! আল্লাহর কসম, তুমি আমার কাছে আল্লাহর জমিনের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। আমাকে যদি তোমার বুক থেকে বের করে দেওয়া না হতো, আমি কখনোই তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।” (তিরমিজি)। এই আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, নিজ দেশ ও জন্মস্থানের প্রতি মমতা রাখা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।
​২. হাজীদের ইবাদতে ‘বোনাস ক্রেডিট’ লাভের উপায়
​হজে গিয়ে অনেক হাজী বারবার উমরা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইমাম সাহেব নবীজির সুন্নাহর আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, হজের দিনগুলোতে বারবার উমরা করার চেয়ে কাবা শরীফের নফল তাওয়াফ করা এবং হেরেম শরীফে ইবাদত করা অনেক বেশি সওয়াবের। কাবা শরীফের এক একটি তাওয়াফের বিনিময়ে গুনাহ মাফ হয় এবং সওয়াবের পাল্লা ভারি হয়।নিচে হাজীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্থান ও তাদের ফজিলত তুলে ধরা হলো:
​১. মুলতাজাম (Multazam)
​কাবা শরিফের হাজরে আসওয়াদ থেকে কাবা শরিফের দরজা পর্যন্ত মধ্যবর্তী অংশকে ‘মুলতাজাম’ বলা হয়।
​ফজিলত: এটি দোয়া কবুলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে বুক, মুখ ও হাত রেখে চিপটে ধরে দোয়া করতেন। বর্ণিত আছে যে, এখানে অত্যন্ত আকুতি নিয়ে দোয়া করলে তা কবুল হয়।
​২. হাজরে আসওয়াদ (Hajre Aswad)
​কাবার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত জান্নাতি পাথর।
​ফজিলত: তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করে বা ইশারায় বিসমিল্লাহ বলে দোয়া শুরু করা সুন্নত। এটি বান্দার গুনাহ মোচনে এবং দোয়া কবুলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
​৩. মাকামে ইব্রাহিম (Maqam-e-Ibrahim)
​কাবা শরিফের সন্নিকটে অবস্থিত পাথর, যেখানে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পদচিহ্ন রয়েছে।
​ফজিলত: এখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা অনেক সওয়াবের কাজ এবং নামাজের পর দোয়া করা অত্যন্ত কার্যকরী।
​৪. হাতিমে কাবা (Hatim)
​কাবা শরিফের উত্তর দিকে অর্ধবৃত্তাকার দেয়াল ঘেরা স্থান। একে কাবার অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।
​ফজিলত: হাতিমের ভেতরে নামাজ পড়া কাবার ভেতরে নামাজ পড়ার সমান সওয়াব। এখানে আল্লাহর দরবারে করা তওবা ও দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
​৫. সাফা ও মারওয়া পাহাড় (Safa and Marwa)
​সাঈ করার সময় এই দুই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করা।
​ফজিলত: বিবি হাজেরা (আ.)-এর স্মৃতিধন্য এই স্থান দুটিতে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা সুন্নাত। এখানে দীর্ঘক্ষণ হাত তুলে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময়।
​৬. জমজম কূপের নিকট (Zamzam)
​জমজমের পানি পানের সময় এবং এর পাশে বসে দোয়া করা।
​ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “জমজমের পানি যে নিয়তে পান করা হয়, তা-ই সফল হয়।” পানি পানের পর করা দোয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত কবুলযোগ্য।
​৭. আরাফাতের ময়দান (Arafat)
​৯ই জিলহজ হজের মূল কার্যের দিন এখানে অবস্থান করা।
​ফজিলত: এটি হজের প্রধান স্থান। হাদিস অনুযায়ী, বছরের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফাত দিবসের দোয়া। জোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাত তুলে চোখের পানিতে দোয়া করা হাজিদের জন্য পরম পাওয়া।
​৮. মুজদালিফা ও মাশআরুল হারাম
​আরাফাত থেকে ফিরে রাতে মুজদালিফায় অবস্থান এবং মাশআরুল হারামের নিকট দোয়া।
​ফজিলত: কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা মাশআরুল হারামের কাছে তাকে স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সূর্যোদয়ের আগে এখানে দোয়া করা সুন্নাত।
​৯. মিনা ও জামারাত
​শয়তানকে পাথর মারার (কংকর নিক্ষেপ) স্থান।
​ফজিলত: ছোট জামারা ও মেজ জামারায় পাথর মারার পর কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘ সময় দোয়া করা সুন্নত এবং দোয়া কবুলের অন্যতম সময়।
​১০. রওজায়ে জান্নাত (রিয়াজুল জান্নাত)
​মসজিদে নববীর মিম্বর ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র কবরের মধ্যবর্তী অংশ।
​ফজিলত: এটিকে জান্নাতের বাগান বলা হয়। হাজিরা যখন মদিনায় যান, তখন এই পবিত্র স্থানে সালাত আদায় ও দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
​এই স্থানগুলোতে অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে দোয়া করা হাজিদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহ তাআলা সকল হাজির দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন।

হজ পালনের সময় পবিত্র মক্কার বেশ কিছু নির্দিষ্ট স্থানে দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। হাজিদের জন্য এই স্থানগুলোতে ইবাদত ও দোয়া করা অত্যন্ত বরকতময়। নিচে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্থান ও তাদের ফজিলত তুলে ধরা হলো:
​১. মুলতাজাম (Multazam)
​কাবা শরিফের হাজরে আসওয়াদ থেকে কাবা শরিফের দরজা পর্যন্ত মধ্যবর্তী অংশকে ‘মুলতাজাম’ বলা হয়।
​ফজিলত: এটি দোয়া কবুলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে বুক, মুখ ও হাত রেখে চিপটে ধরে দোয়া করতেন। বর্ণিত আছে যে, এখানে অত্যন্ত আকুতি নিয়ে দোয়া করলে তা কবুল হয়।
​২. হাজরে আসওয়াদ (Hajre Aswad)
​কাবার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত জান্নাতি পাথর।
​ফজিলত: তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করে বা ইশারায় বিসমিল্লাহ বলে দোয়া শুরু করা সুন্নত। এটি বান্দার গুনাহ মোচনে এবং দোয়া কবুলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
​৩. মাকামে ইব্রাহিম (Maqam-e-Ibrahim)
​কাবা শরিফের সন্নিকটে অবস্থিত পাথর, যেখানে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পদচিহ্ন রয়েছে।
​ফজিলত: এখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা অনেক সওয়াবের কাজ এবং নামাজের পর দোয়া করা অত্যন্ত কার্যকরী।
​৪. হাতিমে কাবা (Hatim)
​কাবা শরিফের উত্তর দিকে অর্ধবৃত্তাকার দেয়াল ঘেরা স্থান। একে কাবার অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।
​ফজিলত: হাতিমের ভেতরে নামাজ পড়া কাবার ভেতরে নামাজ পড়ার সমান সওয়াব। এখানে আল্লাহর দরবারে করা তওবা ও দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
​৫. সাফা ও মারওয়া পাহাড় (Safa and Marwa)
​সাঈ করার সময় এই দুই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করা।
​ফজিলত: বিবি হাজেরা (আ.)-এর স্মৃতিধন্য এই স্থান দুটিতে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা সুন্নাত। এখানে দীর্ঘক্ষণ হাত তুলে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময়।
​৬. জমজম কূপের নিকট (Zamzam)
​জমজমের পানি পানের সময় এবং এর পাশে বসে দোয়া করা।
​ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “জমজমের পানি যে নিয়তে পান করা হয়, তা-ই সফল হয়।” পানি পানের পর করা দোয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত কবুলযোগ্য।
​৭. আরাফাতের ময়দান (Arafat)
​৯ই জিলহজ হজের মূল কার্যের দিন এখানে অবস্থান করা।
​ফজিলত: এটি হজের প্রধান স্থান। হাদিস অনুযায়ী, বছরের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফাত দিবসের দোয়া। জোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাত তুলে চোখের পানিতে দোয়া করা হাজিদের জন্য পরম পাওয়া।
​৮. মুজদালিফা ও মাশআরুল হারাম
​আরাফাত থেকে ফিরে রাতে মুজদালিফায় অবস্থান এবং মাশআরুল হারামের নিকট দোয়া।
​ফজিলত: কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা মাশআরুল হারামের কাছে তাকে স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সূর্যোদয়ের আগে এখানে দোয়া করা সুন্নাত।
​৯. মিনা ও জামারাত
​শয়তানকে পাথর মারার (কংকর নিক্ষেপ) স্থান।
​ফজিলত: ছোট জামারা ও মেজ জামারায় পাথর মারার পর কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘ সময় দোয়া করা সুন্নত এবং দোয়া কবুলের অন্যতম সময়।
​১০. রওজায়ে জান্নাত (রিয়াজুল জান্নাত)
​মসজিদে নববীর মিম্বর ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র কবরের মধ্যবর্তী অংশ।
​ফজিলত: এটিকে জান্নাতের বাগান বলা হয়। হাজিরা যখন মদিনায় যান, তখন এই পবিত্র স্থানে সালাত আদায় ও দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
৩. জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত
​যারা হজে যেতে পারেননি, তাদের জন্য জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন ইবাদতের এক সুবর্ণ সুযোগ। ইমাম সাহেব উল্লেখ করেছেন যে, এই দিনগুলোর ইবাদত আল্লাহর কাছে জিহাদের চেয়েও প্রিয়।
​হাদিস: রাসূল (সা.) বলেছেন, “জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের চেয়ে উত্তম এমন কোনো দিন নেই, যে দিনগুলোর আমল আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।” (বুখারি)।
বিশেষ করে ১ থেকে ৯ই জিলহজ পর্যন্ত রোজা রাখা, বেশি বেশি ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করা মুমিনদের জন্য পরকালীন সঞ্চয় বা ‘ক্রেডিট’ হিসেবে জমা হবে।
১ থেকে ৯ই জিলহজ পর্যন্ত রোজা রাখা এবং রাতের ইবাদতের ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিচে আলোচনা করা হলো:
​১. জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব
​পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলোর শপথ করেছেন। সূরা আল-ফাজরে আল্লাহ বলেন:
​”শপথ ভোরের এবং শপথ দশ রাতের।” (সূরা ফাজর: ১-২)
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে ‘দশ রাত’ বলতে জিলহজের প্রথম দশ রাতকে বোঝানো হয়েছে।
​২. ১ থেকে ৯ই জিলহজ রোজা রাখার সওয়াব;
​এই দিনগুলোতে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। বিশেষ করে ৯ই জিলহজ বা আরাফার দিনের রোজা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
​প্রতিদিনের রোজা: একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, জিলহজের প্রথম দশ দিনের প্রত্যেকটি রোজা এক বছরের রোজার সমান সওয়াব বয়ে আনে। (তিরমিজি)
​আরাফার দিনের রোজা (৯ই জিলহজ): নবী করীম (সা.) এরশাদ করেছেন:
​”আমি আশা করি আরাফার দিনের রোজা তার পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) হবে।” (সহিহ মুসলিম)
​৩. রাতের ইবাদতের ফজিলত
​জিলহজের প্রথম দশ রাত আল্লাহর ইবাদতে কাটানো অত্যন্ত মহিমান্বিত কাজ।
​লাইলাতুল কদরের সমান: হাদিসে বর্ণিত আছে, এই দশ রাতের প্রতিটি রাতের ইবাদত ‘লাইলাতুল কদরের’ ইবাদতের সমতুল্য সওয়াব রাখে। (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)
​তাজবিহ ও জিকির: এই দিন ও রাতে বেশি বেশি “সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার” পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
​৪. কুরবানীর পশুর বিশুদ্ধতা ও সঠিক নিয়ম
​কুরবানী কেবল একটি প্রথা নয়, এটি ত্যাগের মহিমা। ইমাম সাহেব কুরবানীর পশুর বয়স ও শারীরিক সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পশুর কান কাটা, লেজ কাটা বা অন্ধ হলে সেই পশু দিয়ে কুরবানী জায়েজ হবে না। কুরবানীদাতার নিয়ত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ: ৩৭)।
কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করা হয়। আপনার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে, কুরবানীর পশুর বয়স, শারীরিক সুস্থতা এবং নিখুঁত হওয়ার শর্তগুলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিস্তারিতভাবে নিচে উপস্থাপন করা হলো:
​১. কুরবানীর পশুর বয়স নির্ধারণ (হাদিসের আলোকে)
​কুরবানীর পশু নির্দিষ্ট বয়সের হওয়া বাধ্যতামূলক। হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে:
​উট: কমপক্ষে ৫ বছর পূর্ণ হতে হবে।
​গরু বা মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর পূর্ণ হতে হবে।
​ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা: কমপক্ষে ১ বছর পূর্ণ হতে হবে।
​ব্যতিক্রম (ভেড়া/দুম্বা): যদি ৬ মাস বয়সের কোনো ভেড়া বা দুম্বা দেখতে সুস্থ-সবল এবং ১ বছর বয়সের ভেড়ার মতো মনে হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়েজ। [হাদিস: সহিহ মুসলিম, ১৯৬৩]
​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা ‘মুছিন্না’ (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) ছাড়া জবেহ করো না। তবে যদি তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হয়, তবে ছয় মাস বয়সের মেষ শাবক জবেহ করতে পারো।” (সহিহ মুসলিম)
​২. পশুর শারীরিক সুস্থতা ও নিখুঁত হওয়া
​কুরবানীর পশু হতে হবে হৃষ্টপুষ্ট এবং যাবতীয় শারীরিক ত্রুটিমুক্ত। পশুর মধ্যে এমন কোনো খুঁত থাকা যাবে না যা তার দাম বা মাংসের ওপর প্রভাব ফেলে।
​রাসূলুল্লাহ (সা.) চার ধরনের পশু কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন:
1. স্পষ্টত অন্ধ: যার একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট।
2. স্পষ্টত অসুস্থ: যার অসুস্থতা প্রকাশ্য।
3. স্পষ্টত ল্যাংড়া: যে পশুটি জবেহ করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না।
4. অত্যন্ত দুর্বল: যার হাড়ে কোনো মজ্জা নেই। [হাদিস: তিরমিজি, ১৪৯৭; আবু দাউদ, ২৮০২]
​৩. পশুর বিশেষ অঙ্গসমূহের সতর্কতা
​হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের আদেশ করেছেন—আমরা যেন (কুরবানীর পশুর) চোখ ও কান ভালোভাবে দেখে নিই।” (ইবনে মাজাহ, ৩১৪২)
​কান ও শিং: পশুর কান বা শিংয়ের অর্ধেকের বেশি কাটা থাকলে বা শিং গোড়া থেকে উপড়ে গেলে সেটি দিয়ে কুরবানী করা মাকরুহ। তবে জন্মগতভাবে শিং না থাকলে কোনো সমস্যা নেই।
​দাঁত: পশুর দাঁত থাকতে হবে যেন সে ঘাস বা খাবার খেতে পারে। সব দাঁত পড়ে যাওয়া পশু দিয়ে কুরবানী করা বৈধ নয়।
​৪. কুরআনের মূল দর্শন: তাকওয়া
​কুরবানীর পশুর আকার বা সৌন্দর্যের চেয়ে মহান আল্লাহর কাছে ব্যক্তির নিয়ত ও তাকওয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
​”আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না ওগুলোর (কুরবানীর পশুর) গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি)।” (সূরা হজ, আয়াত: ৩৭)
​সারসংক্ষেপ: নির্বাচনের সময় যা খেয়াল রাখবেন
​পশুটি নিজের উপার্জিত হালাল টাকায় কেনা হতে হবে।
​পশুটি যেন দেখতে সুন্দর এবং সুস্থ হয়।
​পশুর চামড়ায় যেন বড় কোনো ক্ষত বা চর্মরোগ না থাকে।
​গর্ভবতী পশু কুরবানী করা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
​শাহ কুতুব জামে মসজিদের খুতবা পূর্ব আলোচনায় ইমাম সাহেব এই বিষয়গুলো বিস্তারিত বর্ণনা করলে মুসল্লিরা সহিহভাবে কুরবানী পালনে আরও সচেতন হতে পারবেন।
৫. সমসাময়িক মুসলিম বিশ্ব ও মোনাজাতের গুরুত্ব
​আলোচনার সবশেষে ইমাম সাহেব অত্যন্ত আবেগপূর্ণ মোনাজাত পরিচালনা করেন। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে যখন মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন দেশে নিজ ধর্ম পালনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং অধিকারবঞ্চিত হচ্ছে, তখন আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন, “দোয়া হলো মুমিনের হাতিয়ার।” ইমাম সাহেব বিশেষভাবে দোয়ার সময় মুসলিম বিশ্বে শান্তি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।
​উপসংহার:
শাহ কুতুব জামে মসজিদের ইমাম সাহেবের এই আলোচনাটি ছিল সমসাময়িক ও তথ্যবহুল। এটি আমাদের একদিকে যেমন ব্যক্তিগত আমলের প্রতি উৎসাহিত করেছে, অন্যদিকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।
#অনেক লম্বা, সময় নিয়ে পড়লে অনেক কিছু পরিষ্কার হবে ।
#বেশি করে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করুন।