ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ঘিরে তুলকালাম

Published: 22 May 2026

পোস্ট ডেস্ক :


সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশটির বেকার তরুণ-তরুণীদের পরগাছা এবং তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেন। এরপরেই দেশটির সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। আর এ থেকেই দেশটিতে অনলাইনে জন্ম ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি)। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিজেপি’র ফলোয়ার হুহু করে বাড়তে থাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন লাখ লাখ ভারতীয় তরুণ নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে সিজেপি’কে বেছে নিচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ১৯ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। এটি দেশটিতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসারীর সংখ্যার থেকে অনেক বেশি। একই প্ল্যাটফর্মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনুসারী ৮৮ লাখ।
এ ছাড়া এক্সে সিজেপির অনুসারী দুই লাখ ছাড়িয়েছে। তবে সম্প্রতি আইনি নোটিশের জের ধরে ভারতে সিজেপি’র এক্স অ্যাকাউন্টটি মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার বন্ধ করে দিয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ১৬ মে অভিজিৎ দিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠন চালু করেন। সিজেপির বাণী হলো- ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, অলস।
৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ পুনেতে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশনের ওপর মাস্টার্স করছেন।

অভিজিৎ দিপকে জানান, এসবের কিছুই পরিকল্পিত ছিল না। এর আগে অভিজিৎ আম আদমি পার্টি (আপ)-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ২০২০ সালে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে অভিজিৎ আপের হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কাজ করেছিলেন।

তবে এনডিটিভি বলেছে, অভিজিৎ ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় মিম-ভিত্তিক ডিজিটাল প্রচারণায় কাজ করেছিলেন। ওই নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন দল জয়লাভ করেছিল।
সিজেপি প্রতিষ্ঠার পর অভিজিৎ জানান, এই ‘ব্যঙ্গাত্মক’ আন্দোলনের উত্থান ভারতীয় তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশার প্রতিফলন। তিনি বলেন, তরুণেরা ভীষণ হতাশ। ক্ষোভ প্রকাশের কোনো জায়গা নেই। তারা সরকারের ওপর খুবই রাগান্বিত।

এর আগে গত শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, তেলাপোকার মতো কিছু তরুণ আছে, যারা কোনো চাকরি পায় না বা কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারে না। এদের মধ্যে কেউ কেউ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা, সাংবাদিকতা বা জনস্বার্থমূলক প্রচারণায় যুক্ত হয় এবং সবাইকে আক্রমণ শুরু করে।

সূর্য কান্তের এসব মন্তব্য দেশটির নেটদুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তী সময়ে এনিয়ে সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ভুয়া ডিগ্রিধারীদের কথা বোঝাতে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। ভারতের তরুণদের অপমান করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।
গার্ডিয়ান বলছে, সূর্য কান্তের তেলাপোকা-সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অ্যাকাউন্ট চালু হয়। এরপর সিজেপি মিম, ভুয়া নির্বাচনী স্লোগান ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মাধ্যমে মোদি সরকারের সমালোচনা শুরু করে।

এদিকে সমালোচকরা দাবি করেছেন, দ্রুতই এই অনলাইন জনপ্রিয়তা মিলিয়ে যাবে। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, এটি কোনো তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলন নয়, বরং কেবল একটি ডিজিটাল প্রচারণা।