এখনই টিকা দান করতে জি ৭ দেশগুলোর প্রতি তারকাদের আহ্বান

Published: 8 June 2021, 8:26 AM

পোস্ট ডেস্ক :


করোনা ভাইরাসের উদ্বৃত্ত টিকা দরিদ্র দেশগুলোকে দ্রুত দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের প্রথম সারির সেলিব্রেটিরা। তারা জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর কাছে একটি চিঠিতে বলেছেন, আগস্টের মধ্যে তাদের দানের শতকরা ২০ ভাগ টিকা সরবরাহ দিতে। কিন্তু এর পরিবার্তে যদি ধনী দেশগুলো একসঙ্গে বড় অংকের টিকা পাঠানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তার অনেক বেশি নষ্ট হবে, অপচয় হবে। ওই টিকা সংগ্রহ করে পাঠাতে পাঠাতে অনেক মানুষ মারা যাবেন। ওই চিঠিতে যেসব তারকা স্বাক্ষর করেছেন তার মধ্যে আছেন ভারতের অভিনেত্রী, সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম, টেনিস তারকা অ্যান্ডি মারে, অলিভিয়া কোলম্যান, সঙ্গীতজ্ঞ লিয়াম পাইনে, কেটি পেরি, ক্লাউডিয়া শিফার প্রমুখ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, ইউনিসেফ সতর্কতা দিয়েছে। তারা জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর প্রতি এখনই করোনা ভাইরাসের টিকা দান করার আহ্বান জানিয়েছে।
তা না হলে এই টিকার বহুল পরিমাণ নষ্ট হবে। ইউনিসেফের দাবি, সারা বছরই মসৃণ গতিতে এইসব টিকা গরির দেশগুলোকে দান করে যাওয়া উচিত। একবারে পাঠানোর চেয়ে বার বার অল্প অল্প করে অব্যাহতভাবে পাঠানো হলে তাতে অধিক প্রাণ রক্ষা পাবে।
ব্রিটেন ও অন্য ধনী দেশগুলো তাদের উদ্বৃত্ত টিকা গরিব দেশগুলোকে দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তারকারা ইউনিসেফের পক্ষে ওই দাবি জানিয়েছেন। ডেভিড বেকহ্যাম বলেছেন, সারা বিশ্বের সব জায়গা থেকে করোনা মহামারির বিদায় না হওয়া পর্যন্ত কোথাও থেকে এর বিদায় হবে না। উল্লেখ্য, ওই চিঠিতে আরো যেসব তারকা স্বাক্ষর করেছেন তার মধ্যে আছেন অলিভিয়া কোলম্যান, ইওয়ান ম্যাকগ্রেগর, অরল্যান্ডো ব্লুম, জেমা চ্যান, উপি গোল্ডবার্গ, ক্রিস হোই প্রমুখ।
ইউনিসেফের টিকা বিষয়ক কর্মকর্তা লিলি ক্যাপ্রানি বিবিসি নিউজনাইটকে বলেছেন, বিভিন্ন দেশের তার নিজস্ব জনগণকে টিকা দেয়ার যেমন প্রয়োজন, তেমনি বিশ্বের বাকি মানুষের জন্যও একই সময়ে টিকা দেয়া প্রয়োজন। কোনো সন্দেহ নেই যে, এক সময় আমাদেরকে ১৮ বছরের কম বয়সীদেরকেও টিকা দিতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে অগ্রাধিকারে যারা আছেন, তারা হলেন বিপন্ন পর্যায়ের। একই সঙ্গে বিশ্বে আরো যেসব মানুষ এই গ্রুপে আছেন, তাদেরকেও টিকা দেয়া প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, আমরা বলতে চাই, ব্রিটেন ও জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর এখনই উচিত তাদের দানের টিকাগুলো কম আয়ের মানুষদের দিয়ে দেয়া। একই সঙ্গে তাদেরকে নিজেদের জনগণকেও টিকা দিতে হবে।
কিন্তু গত সপ্তাহে বৃটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, বিদেশে টিকা পাঠানোর চেয়ে ব্রিটেনে শিশুদেরকে টিকা দেয়া তাদের অগ্রাধিকারে থাকবে। অন্য দেশগুলোর মতো নন ব্রিটেন। তারা এখনও জানায়নি টিকাদান বিষয়ক কর্মসূচি কোভ্যাক্সে তারা কি পরিমাণ টিকা দান করবে। তারা শুধু বলেছে, উদ্বৃত্ত টিকা দান করে দেবে। শুক্রবার ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, এই মুহূর্তে ব্রিটেনের হাতে কোনো উদ্বৃত টিকা নেই।
তবে ইউনিসেফের কর্মকর্তা মিস লিলি ক্যাপ্রানি এখনই তাদের দানের টিকা বিতরণ শুরু করার জন্য জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কম আয়ের দেশগুলোর জন্য মসৃণ গতিতে সরবরাহ প্রয়োজন, যাতে তারা বিমানবন্দরের টারমার্ক স্পর্শ করতে পারে এবং এই টিকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেয়া যায়। কিন্তু এখনই যদি টিকা পাঠানো শুরু না হয় এবং সব টিকা একসঙ্গে পাঠানোর পরিকল্পনা থাকে তাহলে ওইসব টিকা সংরক্ষণের সক্ষম হবে না দান গ্রহীতারা। ফলে অনেক টিকা নষ্ট হয়ে যাবে। টিকার লাখ লাখ ডোজের মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে এবং ব্যবহার অনুপযোগী হতে পারে। এমন হলে তা হবে একটি ট্রাজেডি।
এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে ওইসব সেলিব্রেটি বলেছেন, দরিদ্র দেশগুলোতে এরই মধ্যে টিকা বিতরণ শুরু করেছে ইউনিসেফ। তা সত্ত্বেও তাদের কাছে ১৯ কোটি ডোজ টিকার ঘাটতি আছে। সেলিব্রেটিরা বলেছেন, উন্নত দেশগুলো যদি তাদের দানের টিকা দান করে দেয় তাহলে কমপক্ষে ১৫ কোটি ডোজ টিকার সংস্থান হবে। ওই টিঠিতে আরো বলা হয়েছে, এখনও বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •