কাবুলে বিমানবন্দরে গোলাগুলি, বাইডেনকে যে অনুরোধ করবেন বরিস জনসন

Published: 23 August 2021

পোস্ট ডেস্ক :

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে আজ সকালেও গোলাগুলি শুরু হয়েছে। অনলাইন স্কাই নিউজ বলছে, সকালে বিমানবন্দরের উত্তর গেটে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের সঙ্গে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়েছে। জার্মানির বুন্দেশেহর টুইটারে বলেছে, এতে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। এতে মার্কিন ও জার্মান বাহিনীও জড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানা যায়নি।

ওদিকে আগামী ৩১ শে আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। কিন্তু কাবুল বিমানবন্দরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই সময়ের পরও সেখানে সেনা রাখার জন্য বাইডেনের প্রতি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে আহ্বান জানাবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও গার্ডিয়ান। ওই বিমানবন্দরের ভিতরের পরিস্থিতি রয়েছে মার্কিন সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বাইরের নিয়ন্ত্রণ তালেবানদের হাতে। দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় বিমানবন্দরে কয়েক হাজার মানুষ অপেক্ষা করছেন। তারা যে যেভাবে পারেন বিমানবন্দরের টারমার্ক স্পর্শ করার চেষ্ট করছেন। এতে প্রচ- হুড়োহুড়ি, ধাকাধাক্কি হচ্ছে। এতে সম্প্রতি কয়েকজন মারাও গেছেন। এ অবস্থায় রোববার রাতে ডাউনিং স্ট্রিট নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার জো বাইডেনের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সাক্ষাৎ ঘটবে বরিস জনসনের। সেই বৈঠক থেকে ৩১ শে আগস্টের পরেও কাবুলে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য তিনি জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানাবেন।

ওদিকে বিমানবন্দরে বিশৃংখল পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে তালেবানরা। তারা বলেছে, শুধু তারাই সেখানে শৃংখলা ফেরাতে পারে। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক তালেবান কর্মকর্তা বলেছেন, বিদেশিদের আফগানিস্তান ত্যাগের জন্য সময়সীমা ৩১শে আগস্টের পরে বাড়ানো হবে। কারণ, এ সময়ের মধ্যে অনেক বৃটিশ নাগরিক আফগানিস্তান ছাড়তে সক্ষম হবেন না। আবার রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনও বলেছেন, উদ্ধার অভিযানের সময়সীমা পিছিয়ে দেয়া হতে পারে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি এই সময় বর্ধিত করা হবে।

ব্রিটিশ একজন মন্ত্রী বলেছেন, কাবুলে বিমানবন্দরের বাইরে মানুষের ঢল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। কারণ, এতে হস্তক্ষেপ করেছে তালেবানরা। এর ফলে বৃটিশদের উদ্ধার ত্বরান্বিত হয়েছে। রোববার রাতে বৃটেনের দ্য টাইমস রিপোর্ট করেছে যে, রাজকীয় বিমান বাহিনী এরই মধ্যে তাদের উদ্ধার অভিযানের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। এই উদ্ধার অভিযান মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা এখন শেষ হবে শুক্রবার বা শনিবার। ওদিকে সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী জেমস হিপ্পে তালেবানদের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, বিমানবন্দরের বাইরে লোকজনের ভিড়কে সামলে নিতে সহায়তা করেছে তালেবানরা। যারা ব্রিটেনে যেতে চান তাদের জন্য এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তাদের জন্য আলাদা লাইন নির্ধারণ করে দিয়েছে তালেবানরা। এতে আমাদের উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত হয়েছে।

অন্যদিকে বিমানবন্দরে বিশৃংখলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তালেবানরা বলেছে, বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২০০ সেনা আছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না যথাযথ উপায়ে। তালেবানদের গাইডেন্স কাউন্সিলের প্রধান আমির খান মুক্তাকি বলেছেন, পুরো আফগানিস্তান এখন নিরাপদ। কিন্তু বিমানবন্দর, যা মার্কিনিদের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে, সেখানে নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের কাছে নিজের দুর্নামের কথা বলে না, নিজেদের বিব্রত হওয়ার কথা বলে না, তাদের এই মানসিকতার কথা আমাদের লোকজনকে বলে না, তারা আর বলে না যে- তালেবানরা হলো এক রকম শত্রু। এক্ষেত্রে জো বাইডেন বলেছেন, মার্কিনিরা এখন ওই বিমানবন্দরের ভিতরে শৃংখলা বজায় রাখছে উদ্ধার অভিযানে। এ প্রক্রিয়ায় তালেবানরা সহযোগিতা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।