আফগান যুদ্ধের গোপন ইতিহাস
পোস্ট ডেস্ক :

১৮ বছর ধরে আমেরিকা আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। এর পেছনে কারণ কী আছে তা বোঝার জন্য একটি ফেডারেল এজেন্সি ৪০০০ জনেরও বেশি লোকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। যাদের সংঘাতে সরাসরি ভূমিকা ছিল। সেই সাক্ষাৎকারগুলোতে জেনারেল, রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা যুদ্ধের দীর্ঘায়িত ভুলগুলোর বিবরণ তুলে ধরেছেন । যারা এই যুদ্ধ নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তিন বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ওয়াশিংটন পোস্ট আফগানিস্তান পুনর্গঠনের জন্য বিশেষ মহাপরিদর্শকের কার্যালয় দ্বারা পরিচালিত “Lessons Learned” নামে ২,০০০ পৃষ্ঠারও বেশি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে । সেই সাক্ষাৎকারগুলো প্রকাশ করে যে যুদ্ধে কারোরই সহমত ছিল না, কীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানো যায় তাই ছিল মূল বিষয় । সেই সঙ্গে যুদ্ধ সংক্রান্ত ১০০-রও বেশি এমন কিছু মেমো রয়েছে প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব ডোনাল্ড এইচের কাছে যা সংরক্ষিত আছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভে। এই মেমোগুলোতে উল্লেখ করা আছে সেই সময়ে পেন্টাগনের নেতারা তাদের অধীনস্থদের কী নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই মেমো প্রমাণ করে দেশের তিন রাষ্ট্রপতি কীভাবে গত দুই দশক ধরে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দা লেসনস লার্নড ইন্টারভিউ- তে জানা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি, জেনারেল এবং কূটনীতিকরা বহু বছর ধরে প্রকাশ্যে যে বক্তব্য রাখছেন আর আসলে যা ঘটেছে তা আসলে পরস্পর বিরোধী।
শুধু তাই নয়, জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে তারা নানারকম গল্প ফেঁদেছিলো, যাতে যুদ্ধ নিয়ে তারা কোনো প্রশ্ন না করতে পারে। সাক্ষাৎকারদাতাদের মধ্যে অনেকেই মার্কিন সরকারের ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেছেন। আমেরিকার প্রথমে আফগানিস্তান আক্রমণ করার যৌক্তিকতা পরিষ্কার ছিল: আল-কায়েদা ধ্বংস করা। একবার সেই মিশন সম্পূর্ণ হয়ে যাবার পর আমেরিকা নতুন নতুন কৌশল নিতে শুরু করে দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখার জন্য। কয়েক ডজন মার্কিন ও আফগান কর্মকর্তা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের বলেছিলেন যে, আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে সমৃদ্ধ আফিম ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াই করা পর্যন্ত অনেক মার্কিন নীতি ও উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তারা আফগানিস্তান সম্পর্কে বিশদ কিছু জানতেন না। তা সত্ত্বেও আফগানিস্তানে একটি বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন দেখে এসেছে আমেরিকা। যত পেরেছে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে আমেরিকা কার্যত নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে আফগানিস্তানের নাগরিকদের। একজন মার্কিন উপদেষ্টা জানাচ্ছেন , তিনি বিমানঘাঁটিতে কাজ করার সময় দেখেছেন কীভাবে একটির পর একটি আফগান জেট এসে জ্বালানি ভরে তা কালোবাজারে বিক্রি করতো। শেষের দিকে তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ঘুষ, জালিয়াতি এবং দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল আফগান মাটি ।




