আফগানিস্তানে সরকারি সেবা অচল

Published: 2 September 2021

পোস্ট ডেস্ক :


আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ। আফগান সরকারের সেবা কার্যক্রম অচল। সরকারি কর্মচারিদের বেতন নেই। এ অবস্থায় এক মাসের মধ্যে আফগানিস্তান ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বলা হয়েছে, এ সময়ে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজনকে অনাহারে থাকতে হবে। এ অবস্থায় দেশ পরিচালনার জন্য সরকার গঠনের চেষ্টা করছে তালেবানরা। জাতিসংঘ থেকে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির অর্ধেকের বেশি শিশু একবেলা খাবার পেলে পরের বেলা খাবারের জন্য লড়াই করছে।

এ অবস্থায় আল জাজিরা জানতে পেরেছে যে, আফগানিস্তানে খাবারের দাম শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকদিনে পেট্রোলের দাম বেড়েছে শতকরা ৭৫ ভাগ। আন্তর্জাতিক সাহায্য ছাড়া আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছে কাতার। ফলে তালেবানরাও পশ্চিমাদের কাছে কৌশলে ধরা। পশ্চিমাদের কথামতো সরকার গঠন ও পরিচালনা না করলে, তারা দেশ চালাতে পারবে না। ফলে এরই মধ্যে তারা জানিয়ে দিয়েছে সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করবে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের দেবে সাধারণ ক্ষমা। এখন পর্যন্ত তাদেরকে আন্তর্জাতিক দুনিয়া স্বীকৃতি দেয়নি। এই স্বীকৃতি পেতে হলে তাদেরকে পরিবর্তন ঘটাতেই হবে। তবেই আসবে বিদেশি সহায়তা।
বুধবারও তালেবানরা সশস্ত্র যান সহ কান্দাহারে টহল দিয়েছে। এ সময় তাদের হাতে ছিল দখল করে নেয়া অস্ত্রশস্ত্র। সম্প্রতি কান্দাহারের ওপর দিয়ে মার্কিন কমপক্ষে একটি বøাক হকস হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। তালেবানদের মধ্যে পাইলটের অভাব আছে। তাই মনে করা হচ্ছে, আফগান সেনাবাহিনীর সাবেক কোনো সদস্য এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। ওদিকে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে কাবুলে। এই দলটি কাবুল বিমানবন্দরকে আবার সচল করায় সহায়তা করবে।
ওদিকে পাঞ্জশির উপত্যকায় তালেবান যোদ্ধা ও তাদের বিরোধীদের মধ্যে লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। তালেবানের পদস্থ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জালাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এক ডজন চেকপোস্ট দখল করেছে সরকার। পাঞ্জশির উপত্যকা হলো রাজধানী কাবুলের উত্তরে হিন্দুকুশ পর্বতমালায়। আফগানিস্তানে সামরিক প্রতিরোধের কেন্দ্রবিন্দু দীর্ঘদিন এই উপত্যকা। মধ্য আগস্ট থেকে তালেবান বিরোধীরা এই উপত্যকায় অবস্থান নিয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে আছেন আফগানিস্তানের খ্যাতনামা প্রতিরোধ যোদ্ধা আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদ।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা অ্যালেক্স জেরদেন বলেছেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়। সঙ্কট শুরুর অনেক আগে থেকে অনেক আফগান দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিলেন। তালেবানরা ক্ষমতা দখল করে তা আরো শোচনীয় করে তুলেছে।