পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে খুন
বিশেষ সংবাদদাতা :

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের কুতিকুড়া গ্রামের আতলা বিল থেকে সোমবার অজ্ঞাত পরিচয় একজনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
পরে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ি উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের পূর্ব বাঁশকান্দা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে হযরত। পরদিন মঙ্গলবার নিহতের ভাই আবু নাসের এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানায় মামলা করলে তদন্তভার পায় ডিবি পুলিশ।
নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই হত্যার রহস্য পায় ডিবি পুলিশ। ভায়রা লিয়াকত আলীর সঙ্গে হযরত আলীর স্ত্রী সাবিনা খাতুনের প্রায় ১০ বছর ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলে আসছিল। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়ায় হযরতকে খুন করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়। বৃহস্পতিবার সাবিনা ও তার দুলাভাই প্রেমিক লিয়াকত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন মোদকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশ জানায়, ১০ বছর আগে হযরত এবং সাবিনার বিবাহবিচ্ছেদ হলে ঢাকার উত্তরা এলাকায় তার রিকশাচালক দুলাভাই লিয়াকতের বাসায় থেকে সাবিনা বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ নিয়ে বোনের সংসারে কলহ সৃষ্টি হলে সাবিনাকে বাড়িতে নিয়ে এসে আবারো হযরতের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।
এরপরও দুলাভাইয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখে সাবিনা। এ নিয়ে স্ত্রীকে শাসন করলে দুজন মিলে হযরতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২৯ আগস্ট সাবিনা মিথ্যা কথা বলে চরগোরকপুর বাজারে লিয়াকতের কাছে হযরতকে পাঠায়। পরে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে হযরতকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার পর শরীরে কাদা মাখিয়ে বিলের পানিতে ফেলে দেয়। পরে হযরতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে সাবিনাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।
ডিবি ওসি সফিকুল জানান, দুজনের অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে বাধা দেওয়ার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।




