প্রিন্স অ্যানড্রুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের ডকুমেন্ট হস্তান্তর
পোস্ট ডেস্ক :

অভিযোগ আছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকা অবস্থায় একজন নারীকে জোরপূর্বক যৌনতায় বাধ্য করেছিলেন প্রিন্স অ্যানড্রু। ওই নারী এখন পরিণত বয়সের। তিনি যে অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে প্রিন্স অ্যানড্রুকে। আইনি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা ব্যক্তিগতভাবে প্রিন্স অ্যানড্রুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। এ জন্য দু’সপ্তাহ আগে ডিউক অব ইয়র্ক প্রিন্স অ্যানড্রুর বাসভবনে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে তারা হস্তান্তর করেছেন ওই ডকুমেন্টগুলো। ২১ দিনের মধ্যে এ অভিযোগের জবাব দিতে হবে প্রিন্স অ্যানড্রুুকে। না হয় তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
অভিযোগকারী ওই নারীর নাম ভার্জিনিয়া গুইফ্রে। তিনি প্রিন্স অ্যানড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এতে অভিযোগ করেছেন, যখন যৌন নিপীড়ক হিসেবে অভিযুক্ত জেফ্রে এপেস্টেইনের হাতে তিনি নির্যাতিত হয়েছিলেন, ওই সময়েই তিনবার তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করেন প্রিন্স অ্যানড্রু।
মামলায় বলা হয়েছে, ওই নারী ঘটনার সময় ছিলেন কম বয়সী। অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়সী। তখনই তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেন অ্যানড্রু। বহুবার ইচ্ছাকৃতভাবে ভার্জিনিয়াকে (সাবেক নাম রবার্টস) নোংরা মানসিকতায় এবং যৌন মনোভাব নিয়ে স্পর্শ করেছেন তিনি। এক্ষেত্রে সম্মতি ছিল না ভার্জিনিয়ার। ভার্জিনিয়া গুইফ্রে’র প্রতিনিধিরা প্রথমে গত ২৬ শে আগস্ট উইন্ডসর গ্রেট পার্কে রয়েল লজে প্রিন্স অ্যানড্রুর বাসভবনে এসব ডকুমেন্ট পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু ওই প্রতিনিধিকে জানিয়ে দেয়া হয়, ওই প্রপার্টিতে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না অথবা কোনো আদালতের সার্ভিস বিষয়ক কিছু গ্রহণ করবে না। ওই প্রতিনিধি পরের দিন আবার যান। এবারও তিনি সাক্ষাৎ করেন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এ সময় তার ডকুমেন্টগুলো প্রধান ফটকে রেখে আসার অনুমোদন দেন।
আদালতে বলা হয়েছে, বিবাদী অ্যানড্রুর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি ওই প্রতিনিধির। তাকে বলে দেয়া হয়েছে, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। এমনকি তিনি জানতে চেয়েছিলেন বিবাদী অ্যানড্রু কোথায় আছেন। সে বিষয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি। মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলে দিয়েছেন, তিনি কোনো প্রশ্নের জবাব দেবেন না। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্স অ্যানড্রুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বলেছেন, এ নারীর সঙ্গে তার কোনোদিন সাক্ষাৎ হয়েছিল কিনা তা তিনি স্মরণ করতে পারছেন না।




