কঙ্গোতে ৮৩ যৌন নির্যাতন শনাক্ত, জড়িত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্টাফরাও, মহাপরিচালকের দুঃখ প্রকাশ
পোস্ট ডেস্ক :

আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে গিয়ে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কিছু স্টাফ। ওই সময়ের কমপক্ষে ৮৩টি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ শনাক্ত করেছে এ সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন। এতে দেখা গেছে এসব অপরাধের সঙ্গে সংস্থার ২০ জন স্টাফও জড়িত। এ বিষয়ে মঙ্গলবার ৩৫ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। এতে ফুটে উঠেছে জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংগঠন কিভাবে বছরের পর বছর যৌন নির্যাতনের সঙ্গে এত ভয়াবহভাবে জড়িয়ে গেছে। ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সংস্থাটির আন্তর্জাতিক টিমের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগ দেয়া ব্যক্তিরাও এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
এই রিপোর্টে বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন গাড়িচালক তাকে গাড়িতে তুলে বাসায় পৌঁছে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে মাঙ্গিনা শহরে একটি সড়কের পাশে ফোনকার্ড বিক্রি করতেনজোলিয়ানি। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার পরিবর্তে ওই গাড়িচালক তাকে নিয়ে যায় একটি হোটেলে। জোলিয়ানি বলেছেন, সেখানে তাকে ধর্ষণ করেছে ওই চালক। এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া এই নির্যাতিতার প্রয়োজনীয় কোনো সাপোর্ট ও সহযোগিতা ছিল না বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের একজন সদস্য মালিক চাউলিবালি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ৯টি ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেসব নারীর সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে, তারা বলেছেন- ধর্ষণের সময় ধর্ষণকারী কোনো জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করেনি। এর ফলে তাদের অনেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিছু নারী বলেছেন, তাদেরকে ধর্ষণকারীরা জোর করে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেছে। যৌনতার বিনিময়ে কাজ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল অথবা যারা ধর্ষণের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন তাদের কয়েক ডজন নারীর সাক্ষাতকার নিয়েছে কমিশন। এই তদন্তে ৮৩ জন অপরাধীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে কঙ্গোর নাগরিক ও বিদেশি। ২১টি ঘটনায় রিভিউ টিম নিশ্চিত হয়েছে যে, ইবোলা সংক্রমণের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যেসব কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল, অভিযুক্তদের মধ্যে তারাও আছে।
কঙ্গোতে পরিচ্ছন্ন স্ট্রাকচার ব্যর্থ হয়েছে, এসব বিষয়কে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে এই রিপোর্টে ভয়াবহ এক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে কর্মীদের যৌন নির্যাতন থেকে দূরে থাকার প্রশিক্ষণ দেয়া থেকে দূরে থাকার নিন্দা জানানো হয়। তবে ‘একশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ফর দ্য প্রটেকশন অব উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ইন দ্য ডিআরসি’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক প্যাসি মুলাবামা এই রিপোর্টে যা উঠে এসেছে একে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, অনেক বছর ধরে কঙ্গোতে যুদ্ধ চলছে। কিন্তু নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও যৌনতায় পথভ্রষ্ট করার জন্য এখনও মানবিক সাহায্যকর্মীরা দায়ী করা, এটা মেনে নেয়া যায় না। এসব ঘটনায় যারা দায়ী তাদেরকে অবশ্যই কৃতকর্মের জন্য শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
ওদিকে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া নারী বা যারা বেঁচে আছেন তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেডরোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস। এই তদন্ত রিপোর্টকে তিনি ভীতিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, আমার অগ্রাধিকার হলো- অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা। কোনো অজুহাত না শোনা। আফ্রিকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক মাতশিদিসো মোইতি বলেছেন, তদন্তে যা উঠে এসেছে তাতে তার এজেন্সির হৃদয় ভেঙে গেছে। তিনিও ওইসব বালিকা ও নারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।




