যৌনকর্মীর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন যুবলীগ নেতা!
বিশেষ সংবাদদাতা :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মোল্যার (৪০) বিরুদ্ধে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক যৌনকর্মী। একইসঙ্গে জুলহাস মোল্যাকে তার সন্তানের পিতা বলেও দাবি করেছেন তিনি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে যৌনকর্মী উল্লেখ করেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর আগে দৌলতদিয়া যৌন পল্লীতে আসি। এখানে আসার পর থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আমার ভালোভাবেই দিন চলছিল। কিন্তু এরমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা মরহুম নুরুল ইসলাম মন্ডলের ভাগ্নে জুলহাস মোল্যা দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে সে আমাকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর আমাকে বিয়ে করে।
বিয়ের এক বছরের মাথায় জুলহাস মোল্যার ঔরসে আমার একটি পুত্র সন্তান হয়। এরমধ্যে নানা কৌশলে জুলহাস আমার কাছ থেকে ব্যবসা ও রাজনীতির কথা বলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেয়।
এরপর থেকে সে বদলে যেতে থাকে। আমার উপর নানা অত্যাচার-নির্যাতন চালায় এবং অন্যায়ভাবে যৌতুক দাবি করতে থাকে।
আমি সব অত্যাচার সহ্য করেও সংসার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে আমাকে জোরপূর্বক তালাক দেয়। সংসার থেকে বিতাড়িত হয়ে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে আবারো পূর্বের পেশায় ফিরে আসি।
এতদিন তার ক্ষমতার দাপটের কারণে কোনো অভিযোগ করার সাহস পাইনি। সম্প্রতি তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করার খবর পেয়ে আমি এ অভিযোগ করার সাহস পাই। আমি আমার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া সব নগদ অর্থ ফেরত চাই। সেই সঙ্গে আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয়েরও দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের বহিষ্কৃত (সাময়িক) সাধারণ সম্পাদক মো. জুলহাস মোল্যা (৪০) বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে ফাঁসাতে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ হোসেন মোল্যা জানান, আমরা লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। আগামী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




