টেকনাফ থেকে দুই লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

Published: 26 November 2021

পোস্ট ডেস্ক :

বিজিবি’ৱর টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের দুই লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপি গতকাল রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে অত্র বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-১৮ থেকে আনুমানিক ১.৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্ব কোণে এগারোকানি আলমগীরের প্রজেক্ট এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার হবে।

উক্ত ওই তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং বিওপির একটি বিশেষ টহলদল দ্রুত বর্ণিত এলাকায় গমন করে। কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে এগারোকানি এলাকায় বেড়িবাঁধের আড় নিয়ে গোপনে অবস্থান করে। আনুমানিক রাত ২টার দিকে উক্ত এলাকা দিয়ে তিনজন চোরাকারবারি দুটি প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে নাফ নদী পার হয়।

টহলদল ওই ব্যক্তিদের দেখা মাত্রই তাদের চ্যালেঞ্জ করে খুব দ্রুত তাদের দিকে অগ্রসর হয়। দুষ্কৃতকারীরা দূর থেকে বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি অনুধাবন করা মাত্রই বহনকৃত বস্তা ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে রাতের অন্ধকারে সাঁতরিয়ে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, এলাকাটি বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের অতি নিকটবর্তী (দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার) হওয়ায় ইয়াবা পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তী সময়ে টহলদল বর্ণিত স্থানে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া দুটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত বস্তা থেকে ছয় কোটি টাকা মূল্যের দুই লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

ইয়াবা কারবারিদের আটক করতে ওই এলাকা ও নদীর তীরসহ পার্শ্ববর্তী স্থানে আজ শুক্রবার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হলেও কোনো পাচারকারী কিংবা তাদের সহযোগীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওই স্থানে অন্য কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি বিধায় ইয়াবা কারবারিদের শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। তবে তাদেরকে শনাক্ত করার জন্য অত্র ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) টেকনাফ সীমান্তের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত, মানবপাচারসহ সীমান্তে সংঘটিত সব ধরনের সীমান্ত অপরাধসমূহ প্রতিরোধকল্পে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে যাচ্ছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।