মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ মীর জাফরের তিন শতাধিক বংশধর

Published: 5 April 2026

পোস্ট ডেস্ক :


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন মীর জাফর আলী খানের প্রায় ৩৪৬ জন বংশধর। বিশ্বাসঘাতকতা করে ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটিয়ে মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের বংশধরদের নবাবি শুরু হয়েছিল। সেই নবাবি বংশের উত্তরসূরিদেরই এখন নাগরিকত্ব প্রমাণে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে!

২০২৫ সাল পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের লালবাগ নব আদর্শ হাই স্কুলের ১২১ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন তারা। তবে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাদের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরবর্তী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

বাদ পড়ার এই তালিকায় আছেন ৮২ বছর বয়সী ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত সৈয়দ রেজা আলী মির্জাও। তিনি জানান, তার পরিবারের ৯ জন সদস্যসহ তার নিজের নামও তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শুনানিতে সব নথি জমা দেওয়ার পর কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, আমার নাম থাকবে। কিন্তু পরবর্তী তালিকায় দেখি পুরো পরিবারই বাদ।


তার ছেলে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মির্জা বলেন, ‘২০০২ সাল থেকেই আমাদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। হঠাৎ করে কেন বাদ দেওয়া হলো, বুঝতে পারছি না।’

১৫তম প্রজন্মের উত্তরসূরি হিসেবে মির্জা পরিবার এখনো লালবাগের ঐতিহাসিক কিলা নিজামত এলাকায় বসবাস করেন। ছোটে নবাব আক্ষেপ করে বলেন, ‘একসময় আমাদের পূর্বপুরুষরা বিচার করতেন।

আজ আমাদেরই বিচার করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।’
পরিবারের দাবি, তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তিনি জানান, তার পূর্বপুরুষ ওয়াসিফ আলী মির্জা দেশভাগের সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

এ ছাড়া দেশভাগের পর তিন দিন পাকিস্তানের অংশ থাকা মুর্শিদাবাদকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করতেও তাদের পরিবারের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তারা আরো উল্লেখ করেন, তাদের বংশপরিচয় নিয়ে অতীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্বীকৃতিও আছে।

ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ থাকলেও প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা পরিবারটির। মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণ আগামী ২৩ এপ্রিল।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আর. অর্জুন বলেন, ‘নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে নাম বাদ পড়ার কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের সহায়তা করা হবে।’