পায়ে হেঁটে মনোনয়ন জমা দিলেন মমতা

Published: 8 April 2026

পোস্ট ডেস্ক :


পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হলো কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র। আর এই কেন্দ্রের নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই কেন্দ্রে মুখোমুখি লড়াইয়ে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে তাদের মনোনয়ন পর্ব ঘিরে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দুর মনোনয়নে খোদ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি যেমন আলোড়ন তৈরি করেছিল, তেমনই মমতার দলীয় নেতৃত্ব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গী করে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়েও প্রবল কৌতুহল তৈরি হয়েছিল। এই আবহে বুধবারই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটারের বেশি পথ পায়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে তিনি এই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। মনোনয়ন পর্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সি, কাউন্সিলর এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। তবে মমতার সঙ্গে গোটা পথ হেঁটেছেন শয়ে শয়ে দলীয় কর্মী ও সমর্থক।

ভবানীপুর কেন্দ্রের কসমোপলিটন বা বহুত্ববাদী চরিত্রকে সামনে রেখে মমতা তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকদের তালিকায় রেখেছিলেন ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব। সেই সূত্র ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিং রানে, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিং এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ।

অথচ গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড় থেকে রোড শোয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমস্ত্রী অমিত শাহকে সঙ্গী করে নির্বাচন দপ্তরে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। আর সেই রোড শোয়ের শুরুতে অমিত শাহ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আমি ১৫ দিন এই বাংলায় থাকব। আমরা নিশ্চিত, এবার এই বাংলায় পরিবর্তন হবেই। মানুষ এবার দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকারকে বিদায় দেবে।’
অবশ্য বিজেপির প্রচার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, ভবানীপুর এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে বুধবার নির্বাচন কমিশনের তরফে নজিরবিহীনভাবে এক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবারে ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, হুমকিমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত, ছাপ্পাহীন, বুথ-জাম ছাড়াই নির্বাচন হবে।’
এদিন সকালে এসআইআরে বাদ পড়া ৯১ লাখ ভোটারদের ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলতে দিল্লিতে নির্বাচন সদনে গিয়েছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেখানেই সংঘাত বাঁধে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের। অভিযোগ, তাদের বেরিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে পাল্টা পোস্ট করে লেখা হয়, ‘একটি নিরেপক্ষ সাংবিধানিক সংস্থার থেকে কি এমন আচরণ আশা করা যায়? সোজা কথা সোজা ভাবেই বলছি: মুখোশটা এ বার খুলে ফেলুন!’