দেশজুড়ে চলছে ‘মবের সংস্কৃতি’: সংসদে রুমিন ফারহানা

Published: 20 April 2026

পোস্ট ডেস্ক :


দেশে একের পর এক মবের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানান ধরনের সংস্কৃতি রয়েছে— নাচ, গান, অভিনয় কিংবা কবিতার সংস্কৃতি। কিন্তু বাংলাদেশে গত দেড় বছর এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুই মাসে যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা হলো ‘মবের সংস্কৃতি’, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে নিজের দেওয়া নোটিশ উত্থাপন করে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমানে দেশের কোথাও জননিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি— সবখানেই নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধানদের লক্ষ্য করে মব তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ ও সুপ্রিম কোর্টের ল’ইয়ার্স রুমে মবের ঘটনা বিচারব্যবস্থার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এছাড়া দ্য ডেইলি স্টার অফিসে হামলা, চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা এবং কুষ্টিয়ায় অভিযোগকারীকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাগুলো সমাজের গভীর অবক্ষয়ের ইঙ্গিত বহন করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মন্ত্রী একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে দেশে মব কালচার বন্ধ হবে এবং বিচারহীনতার অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে— একটির পর একটি ঘটনা ঘটেই চলেছে। তিনি মনে করেন, মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখনই তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র হতাশা, ক্ষোভ এবং বৈষম্য বিরাজ করছে। বিশেষ করে অপরাধের বিচার না হওয়ার সংস্কৃতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। উদাহরণ হিসেবে তিনি দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যার বিচার এখনও হয়নি—এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবই মব কালচারকে আরও উসকে দিচ্ছে। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তার বরাদ্দ পাওয়া দুই মিনিট পূর্ণ হতেই মাইক বন্ধ হয়ে যায়।