ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ-ছাত্রদল কার্যালয় ভাঙচুর
পোস্ট ডেস্ক :

পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ চত্বরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসময় কলেজ শাখা ছাত্রদলের কার্যালয় ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে দায়ী করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছেন। তবে আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বকুল মোড় থেকে একটি মিছিল নিয়ে কলেজ গেটের দিকে রওনা হন। মিছিলটি কলেজের মূল ফটকের সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কলেজ চত্বর ও আশপাশের এলাকা।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করে। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজিব হাসান এ সংঘর্ষের জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেন।
জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন দাবি করেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ‘শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায়’ বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের পূর্বনির্ধারিত অবস্থান কর্মসূচির জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজ গেটে অবস্থান করছিল। এসময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে তাদের অফিস ভাঙচুর করে। ছাত্রশিবিরের এই কর্মকাণ্ডে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে ইটপাটকেল ছুঁড়লে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসান বলেন, শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে তাদের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে ছাত্রদল। ছাত্রদল বহিরাগতদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। সেখানে আমরা ছাত্রদের নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় আমাদের মিছিলকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে ছাত্রদলের কর্মীরা। আমরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তারা আমাদের উদ্দেশ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে। এসময় আমরা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব বলেন, কলেজের সামনে ছাত্রদলের পূর্বনির্ধারিত অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রশিবির মিছিল নিয়ে সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে ইটপাটকেল ও পরে গুলিবর্ষণ করে। একপর্যায়ে তারা ছাত্রদলের অফিস ভাঙচুর করে। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজে বিক্ষোভ করবে এতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা কলেজে কোনোপ্রকার নৈরাজ্য সহ্য করব না।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আমজাদ হোসেন বলেন, কলেজে ছাত্রদের নানা কর্মসূচি থাকবে এটা স্বাভাবিক। ছাত্রদলের মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি ও ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য আমার কাছে তারা অনুমতি চেয়েছে। তবে কলেজে ইনকোর্স পরীক্ষা চলায় তাদের দুপুর ১২টায় কর্মসূচির সময় দেওয়া হয়।
বহিরাগতদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগত থাকেই। এসব কর্মসূচির সময় স্টুডেন্ট আইডি দেখে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। বহিরাগতদের প্রবেশে শতভাগ নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করব। একইসঙ্গে কলেজে চলমান পরীক্ষা যথাযথভাবে চলবে। আমরা আপাতত কোনও কর্মসূচি কলেজে করতে দেব না। তবে কোনও মামলা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




